বিশেষ প্রতিনিধি
অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার। কিংবদন্তিতুল্য এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। চরম দারিদ্রতার মধ্যে জীবন কাটিয়ে তিনি একান্তভাবে বুঝেছিলেন গরিব ও নিঃস্ব মানুষের দুঃখ। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত গেয়েছেন দুঃখজয়ের গান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি ছিলেন ভীষণ রকম স্বশিক্ষিত। বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিম মহান মুক্তিযুদ্ধে পথে পথে ঘুরে গানের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন, উজ্জীবীত করেছেন মানুষকে। অষ্টম মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষে বাউলের দিরাই উপজেলার উজানধলের গ্রামের বাড়িতে কবরস্থানে পুস্প অর্পণ, মিলাদ মাহ্ফিল্,
সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং রাতে বসবে বাউল আসর। বেলা ১১ টায় শাহ্ আব্দুল করিম স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে দিরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার বাউল ভক্তরাও নানাভাবে স্মরণ করছেন শাহ্ আব্দুল করিমকে।
‘এ দ্বন্দ্ব কেন- কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান…. আামি বাংলা মায়ের ছেলে…., স্বাধীন বাংলারে…., শোষনহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা চাই…. ’সহ অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ্ আব্দুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনয়িনের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ পরিবর্তনের স্বাপ্নিক বাউল ছিলেন শাহ্ আব্দুল করিম। গানে গানে মানুষের ‘দুঃখ-দুর্দশার ছবি’ এঁকেছেন, বিপন্ন মানুষের দাবি তুলে ধরেছেন। আমৃত্যু তিনি উজানধল গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন তিনি। গানে-গানে অর্ধ শতাব্দিরও বেশী লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে ছেড়ে চলে যান এই বাউল। প্রতি বছরের মতো এবারও গণ-মানুষের প্রিয় এই বাউলের মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে তাঁর ভক্ত বাউলরা সমবেত হচ্ছেন তাঁর বাড়িতে।
৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উজানধলে আসা বাউল শাহ আব্দুল তোহাহেদ, বাউল তছকির আলী ও বাউল আব্দুর রহমান, বাউল ফারুক মিয়া বলেন, ‘শাহ আব্দুল করিম’এর নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কাম লাইব্রেরি নির্মাণ’ জরুরী।’ একই সঙ্গে সরকার কর্তৃক বাউলদের পৃষ্ঠপোষকতাও দাবি করলেন তারা।
বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ্ নূর জালাল বলেন, ‘শাহ্ আব্দুল করিমের সৃষ্টি সংরক্ষণের জন্য সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। শাহ্ আব্দুল করিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কাম লাইব্রেরি নির্মাণের পাশাপাশি, শাহ্ আব্দুল করিম’র বাড়িতে তাঁর ব্যবহৃত যন্ত্রসহ আনসাঙ্গিক বিষয়াদি যতেœ রাথার জন্য একটি সংগ্রহশালা হতে পারে। শাহ আব্দুল করিম জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপনের জন্য বাড়ির সামনের জমিটুকুও ভরাট হতে পারে।’
শাহ আব্দুল করিম’এর নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কাম লাইব্রেরি নির্মাণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ লোক সংস্কৃতির রাজধানী, এখানে সুরের বৈচিত্র খেলা করে। সরকারের তরফ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য এবং অপসংস্কৃতি রোধের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। সেই জন্য সুনামগঞ্জ তথা দেশের বিখ্যাত লোককবি রাধারমণ ও শাহ্ আব্দুল করিম’র বাড়ির আশপাশে তাঁদের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কাম লাইব্রেরি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী’র মহাপরিচালক একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আমরা সে লক্ষেই সরকারি জমি খুঁজছি। আশা করছি শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।’