- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দ. সুনামগঞ্জে চলছে ধান কাটার ধুম

সোহেল তালুকদার, দ.সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ছোট বড় ২৩টি হাওরে ফসলের মাঠ এখন সোনালী প্রান্তর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠের সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে আর কয়েকটি দিন রক্ষা পেলে চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধানের বা¤পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলায় এবার বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় কৃষক পরিবার রয়েছো ২৯ হাজার ২২৭টি। উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমান ২২ হাজার ২ শত হেক্টর। আবাদী জমির পরিমান ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এতে ৮৯ হাজার মেট্রিক টন চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮ শত ৬০ হেক্টর জমিতে, উফশী, ব্রি ২৮, ২৯ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯ শত ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং স্থানীয় জাতের ৬শত ১০ হেক্টর।
কৃষকরা জানান, বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। পোকার আক্রমণ না হওয়ায় এবার তুলনায় অনেক বেশি ফলন হবে। এছাড়াও অনুকূল আবহাওয়া, সার, বীজ ইত্যাদি সঠিক সময়ে পাওয়ায় এবার বোরোর বা¤পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষকরা।
শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার নাগডোরা, দাউড়িকান্দি, দেখার হাওর, সাংহাইর হাওর, কাউয়াজুরী হাওর, জামখোলা হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা। হাওরের ধানের খলায় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা মনের আনন্দে কাজ করছেন।

জয়কলস ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের কৃষক মো. মতিন মিয়া বলেন, যদি কোন ঝড় বৃষ্টি না হয় তাহলে এবার বোরোর বা¤পার ফলন হবে। ইতোমধ্যে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। কোন কোন এলাকায় আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।
উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সার, বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকায় বোরোর বা¤পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় বৃষ্টি ও ডোবরার পানিতে ফসলী জমির ধান কিছুটা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, আগাম বন্যার সতর্কতা জানিয়ে পিআইসিদের বাঁধ তদারকি করার জন্য বলঅ হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, হাওরে ধান কাটার জন্য কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। চলতি বছরে শ্রমিক সংকট নিরসনে উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের মাঝে কৃষি বিভাগ থেকে ১০টি হারভেস্টার মেশিন দেয়া হয়েছে। বিগত বছরেও ৮টি হারভেস্টার মেশিন দেয়া হয়েছিল। এই সপ্তাহের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য বলা হয়েছে। কৃষি অফিসের কর্মীরাও মাঠে কাজ করছেন।

  • [১]