- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দ. সুনামগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝিমিয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
হাওর বেষ্টিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি অবহেলা আর অযতেœ পড়ে রয়েছে। দেখার কেউ নেই! প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৯০ এর দশকে  দরগাপাশা গ্রামে নির্মিত হয় এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে চিকিৎসক স্বল্পতা, নেই চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা, বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। যেখানে একজন কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কথা, সেই পদটি পূর্ণ থাকলেও সপ্তাহে দুদিন আসার স্থলে প্রায়ই উনাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সেখানে একজন দপ্তরী রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় পরিবার কল্যাণ     কেন্দ্রটির সব কয়টি দরজা জানালা ভাঙ্গা, রং মুছে গিয়ে এমন অবস্থা হয়েছে দেখলে মনে হয় যেন হাজার বছরের পুরানো কোন পরিত্যক্ত দালান কোঠা। হাসপাতালের ভিতরের প্রত্যকটি রুমে ও বাথরুমে এমনভাবে ফাটল ধরেছে যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সেখানে কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচেছন এলাকার গরীব ও অসহায় লোকজন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ময়লা নর্দমায় ভরপুর। দেখলে মনে হয় ভূতুরে পরিবেশ। চিকিৎসার জন্য গরীব অসহায় লোকদের ছুটে যেতে হয় পাগলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অথবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিচ্ছিন্নতা ও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না অসহায় জনগণ। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনাক্রমে জানা যায়: বিগত কয়েক বছর যাবৎ ঐ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কোন মেডিকেল অফিসারের নিয়োগ হলেও তারা মনগড়া আসেন এবং চলে যান, কোন মাসে একদিন পাওয়া যায় আবার কোন মাসে পাওয়া যায় না। পরিদর্শিকা একজন মহিলা থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময় মাঠে চলে গেলে হাসপাল খালি থাকে। একাধিক এলাকাবাসীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়: এই ইউনিয়নের ২৯ টি গ্রামের প্রায় ১২-১৫ হাজার লোকের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। যুবক, যুবা, গর্ভবর্তী ও বৃদ্ধ লোকদের চিকিৎসার জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, অর্থের অভাবে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন এবং বলেন, এলাকার গরীব ও অসহায় লোকদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই মাও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। বর্তমানে আপনাদের মাধ্যমে পুনরায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি বিহীত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী রাজিব মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন : এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ এটি পূনঃনির্মাণ প্রয়োজন। আমি এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে রির্পোট প্রেরণ করেছি।  এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মফিজুল ইসলাম জানান: এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসারের পদ আছে এবং তিনি প্রতিদিন ডিউটি করেন। ভাঙ্গা দরজা,জানালা বিল্ডিংয়ে ও ফাটল ধরার ব্যাপারে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

  • [১]