ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন (হাজিপাড়া) গ্রামে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য পানি নিষ্কাশন ড্রেনের দেওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। শুক্রবার বিকালে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। তিনটি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের এ ড্রেনের নির্মাণ কাজ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে তারা চরম ক্ষোভও প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে এলজিইডির নিয়ন্ত্রণে থাকা এই ড্রেনটি নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মমো এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আবদুর রউফ বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও মাটির চাপে ড্রেনের দেয়াল ভেঙ্গেছে।’
এলাকাবাসী জানান, যে টাকার বরাদ্দ এখানে শুধু ড্রেনের জন্য দেওয়া হয়েছে তাতে খুব ভাল করে শক্ত ও উন্নত মানের একটি ড্রেন তৈরি করা যাবে। কিন্তু ঠিকাদার কাজে অবহেলা করছেন। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে কাজ বিলম্ব করার চেষ্টা করছেন। ড্রেনের মাঝখানে অনেকটা উঁচু জায়গা থাকায় উত্তর পাশের পানি সহজে নিষ্কাশন হয় না। দক্ষিণ পাশে ড্রেনের শেষাংশে মাটির ব্যবহার করা হয়নি। তাই এখানেও ধস
নেমেছে। কাজ ঠিকমতো না হলে সব জায়গাই ভেঙ্গে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ড্রেনের বেশ কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধ নির্মিত ড্রেনের পাশের রাস্তায় কয়েকটি স্লেভ পরে আছে। ৩শ ৪০ ফুট পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের কোনো জায়গায়ই সাপোর্টের জন্য কোনো পিলার ব্যবহার করা হয় নি। অনেক ঢালু জায়গা থাকলেও ড্রেনের কোনো অংশেই ঠেক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় নি। দক্ষিণ অংশে প্রায় ৪০ ফুট দেয়াল পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে হেলে আছে। পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় ড্রেনের মাঝে আটকে আছে পানি। সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের মাঝে একধরণের ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমি ফয়লাও খইছিলাম শক্ত অইবার লাগি খুটি দেওয়া লাগবো। তারা (ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মানুষ) আমারে লইয়া হাসাহাসি করছে।’
ভানু দে বলেন, ‘যদি নির্মাণের সময় পিলারের মাধ্যমে টানা দেওয়া হতো তাহলে এমনটা হতো না।’
রাজমিস্ত্রি খসরু মিয়া বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মাঝেও দেখেছি তারা কাজ করেছে। বৃষ্টি ও মাটির চাপেই ড্রেনের দেয়াল ভেঙ্গেছে।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে অভিযোগ করেছি। নিজে কাজ দেখছি। কাজে গাফিলতি আছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে যেনো এই মুহূর্তে কোনো বিল না দেওয়া হয় সেই অনুরোধ করেছি।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ‘ড্রেনের দেয়াল ভেঙ্গে পড়ার খবর পেয়েছি। তাড়াতাড়ি নতুন করে কাজ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কোনো বিল পাশ হবে না।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আলা উদ্দিন খান বলেন- ‘এ খবর আমরা পেয়েছি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতেই দেয়াল ধস হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছি কাজটি তাড়াতাড়ি শেষ করা জন্য।’