বিশেষ প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন অডিটোরিয়াম ‘হাওর বিলাস’ এর নির্মাণ কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে অডিটোরিয়ামটির নির্মাণ কাজ থমকে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার দুপুরে নির্মাণ কাজ দেখতে গিয়ে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি এলজিইডি’র দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দেন, যেহেতু এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একাধিকবার কাজের সময়সীমা বাড়ানোর পরও তারা কাজ করছে না সেহেতু এবার কাজ শেষ না করতে পারলে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
এলজিইডি’র দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, হাওর বিলাসের নির্মাণ কাজ নিয়ে রীতিমত বেকায়দায় আছেন তারা। দুইবার নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়েছে, বার বার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে, কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সর্বশেষ এই বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কাজের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
দায়িত্বশীলরা জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চার কোটি ৮২ লাখ ৬৩ হাজার ৫১০ টাকা ব্যয়ে ঢাকার মহাখালী এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স লিমিটেড এই অডিটোরিয়ামের কাজ পায়। চুক্তি অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে শুরু হয়ে ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে ভবনের কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত (রোববার পর্যন্ত) এই প্রকল্পের ৫২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার ইতিমধ্যে এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা অর্থাৎ ৩৬ ভাগ কাজের বিল নিয়ে গেছে।
শনিবার ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান কয়েকজন শ্রমিক ওখানকার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এসময় তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ইকবাল আহমদকে বলেন,‘ কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, আপনারা সামান্য কাজ করে বিল উত্তোলন করে কাজ ফেলে রাখবেন, সেটি হতে পারে না।’ তিনি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী শামীম হাসান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলমকে এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সর্বশেষ দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান বলেন, আমরা বার বারই তাগিদ দিচ্ছি, কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অকারণেই সময় ক্ষেপণ করছে। দুইবার চুক্তি বাতিলের চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কীভাবে যেন আবার ম্যানেজ করে সময় বাড়িয়ে নিয়ে আসে। নির্মাণ স্থলে ৩২ কেভি’র বিদ্যুৎ লাইন এবং ডিজাইন পরিবর্তনের অজুহাত খুঁজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকৃতপক্ষে এজন্য যে সময় লেগেছে, তাতে কাজ এতোটা বিলম্বিত হবার কথা নয়। শুরু থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে গাফিলতি করছে।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম বলেন, এই ভবন নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দুইবার চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরা আরেকবার সময় নিয়েছে। এবার না পারলে চুক্তি বাতিল করা হবে। তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতি করার অভিযোগ অন্যান্য স্থানেও রয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স’এর কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, কাজ শুরু’র সময় যেখানে ভবন হবে সেখানে ৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইন থাকায় এটা সরাতে সময় লেগেছে। পরে ডিজাইনও পরিবর্তন হওয়ায় কাজ বিলম্বিত হয়েছে। শেষবারে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার। তিনি দাবি করলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। কাজে গাফিলতি করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে কমই রয়েছে।