- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দ. সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমেদ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সরকারের গৃহীত কোনো পদক্ষেপ আলোর মুখ দেখছে না দীর্ঘদিন ধরে। একই কর্মস্থলে প্রায় ৮ বছরেরও অধিক সময় কাজ করার সুবাধে স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ পেয়ার আহমেদ। এ সখ্যতাকে পুঁজি করে কিছুসংখ্যক যুব মহিলা ও যুবকদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে আর্থিক সুযোগ নিচ্ছেন তিনি। সেই সাথে নিজ কর্মস্থলে মাসের পর মাস অনুপস্থিত থেকে বেশির ভাগ সয়মই রাজধানী ঢাকার নিজ বাসায় থাকেন তিনি। এলাকার লোকজন ফোন দিলে তিনি জানান আমি অসুস্থ, কোনো সময় বলেন আমার মেয়ে অসুস্থ, আমার স্ত্রী অসুস্থ। তিনি হাজিরা খাতাই ঠিকই একদিন উপস্থিত হয়ে পুরো মাসের হাজিরা দিয়ে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, যুব উন্নয়ন অফিসের মো. শাহিনুর রহমান নামে এক কমিউনিটি সুপারভাইজার দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও তার ২০১৮ সালের জুন মাসের বেতন উত্তোলন করে মোহাম্মদ পেয়ার আহমেদ আত্মসাৎ করেছেন। একই ভাবে রোকনুজ্জামান নামে আরেক জনকে অনুপস্থিত থাকার পরও ১০/০১/২০১৮ তারিখ হতে গত ৩০.০৬.২০১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত তার বেতন ভাতার এক লক্ষ উনষাট হাজার নয়শত নব্বই টাকা তুলে অত্যন্ত সুকৌশলে আত্মসাৎ করেন।
এই অভিযোগ এন গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সাবেক ক্রেডিট সুপারভাইজার মো. শওকতুজ্জামান স্থানীয় সাংসদ বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। পরিকল্পনামন্ত্রী অভিযোগ পেয়ে তদন্তস্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে নির্দেশ দেন।
কিন্তু এই অভিযোগ করার পরেই অভিযোগকারী ক্রেডিট সুপারভাইজারকে অন্যত্র বদলি করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিন জানান, আমার ইউনিয়নের যুব উন্নয়ন অফিস থেকে গত চার বছরে কোন প্রশিক্ষণ হয়নি। কাউকে ঋণ প্রদান করা হয়নি। অনেক বার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রায় সময় বলেন আমি ঢাকা। আমি অসুস্থ, আমার স্ত্রী অসুস্থ ইত্যাদি ইত্যাদি।
উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর কালাম জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোন প্রশিক্ষণ হয় নি। কয়েক বার আমার কাছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসেছিলেন উনার বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। আমি কোন কাগজে স্বাক্ষর করি নি। মানুষকে কোথায় ঋণ বা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আমি অবগত নই।
পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন জানান, আমার ইউনিয়নে দুই বছর আগে একটি প্রশিক্ষণ হয়েছিল। এর পর থেকে আর কোনো প্রশিক্ষণ বা ঋণ কার্যক্রম হয়নি। হয়ে থাকলেও আমার জানা নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক কর্মকর্তা জানান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমদকে কোন সময় অফিসে পাওয়া যায় না। মাসের পর মাস তিনি অনুপস্থিত থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ পেয়ার আহমেদ জানান, আমি কি করছি না করেছি সেটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানেন। আমার জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জানেন। আপনি আমার অফিসে আসেন, বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি। এর পরে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুনামগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (চ.দা.) মো. হারুন অর রশীদ খান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, যেহেতু এটা মাননীয় পরিকল্পামন্ত্রী স্যারের এলাকা সেই সুবাদে আমরাও চাই এখানে ভাল ভাবে আমাদের যুব উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হোক। এই অভিযোগের কপিতে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সুপারিশ করেছেন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এটা হয়তো উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

  • [১]