স্টাফ রিপোর্টার
ধর্মপাশায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যুবলীগ কর্মীদের হামলায় এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ইফতার পার্টি পণ্ড হয়েছে। হামলায় যুবলীগের দুই কর্মী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত এক যুবলীগ কর্মীকে আশংকাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত যুবলীগ কর্মীকে ধর্মপাশা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার ইফতারের সময় ধর্মপাশার পাইকুরাটি বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্মপাশার পাইকুরাটি গ্রামের মসজিদে নওধার গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী ও বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী রুকনুজ্জামান গ্রামের মসজিদে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রামের মসজিদে ইফতারে বাধা দেয়। পরে পাইকুরাটি বাজারে ইফতার আয়োজন স্থানান্তর হয়। ওখানেও গিয়ে তারা (প্রতিপক্ষের লোকজন) বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত উপজেলার সেলবরস ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি দোলা মিয়াকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান উজ্জ্বলকে ধর্মপাশা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইফতার আয়োজনকারী আওয়ামী লীগ কর্মী রুকুনুজ্জামান জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উল্লেখ করার মত ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই তাকে সহায়তা করেন। এজন্য বুধবার গ্রামবাসীসহ কর্মীদের জন্য তিনি ইফতার আয়োজন করেন। প্রথমে গ্রামের মসজিদে ইফতার আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহরাব মিয়া ও সম্পাদক এরশাদ মিয়ার বাধায় সেখান থেকে পাইকুরাটি বাজারে ইফতার আয়োজন স্থানান্তর করেন। ওখানে এসে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের (স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই) নেতৃত্বে সোহরাব ও এরশাদসহ তাদের সমর্থকরা হামলা করে। হামলায় দোলা মিয়া ও উজ্জ্বল নামে দুইজন গুরতর আহত হন, ইফতারও পণ্ড হয়ে যায়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন রুকন বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে রুকুনুজ্জামান মিথ্যাচার করছেন, আমি হামলা করি নি, আমাদের লোকজন ওখানে পেঁৗছালে রুকুনুজ্জামানের সমর্থকরা হামলা করে। আমাদের লোকজন সেই হামলা প্রতিহত করেছে। ওখানে কেউ হতাহত হয় নি। সে এখন মিথ্যা বানোয়াট গল্প সজিয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, রুকুনুজ্জামান নামের একজনের সমর্থকরা ওখানে ইফতার আয়োজন করেছিল। পরে আরেকপক্ষ ওখানে ইফতার আয়োজন করতে চায়। পুলিশ সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গিয়েছিল। পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগেই ইফতার আয়োজনকারীদের মারপিট করেছে অন্যপক্ষ। এ ঘটনায় কয়জন আহত হয়েছে, কার কি অবস্থা এখনো জানা যায় নি।