- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধর্মপাশায় বীরনিবাস নির্মাণে অনিয়ম, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ কাজের মান বজায় রাখা জরুরি

ধর্মপাশা উপজেলায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের আবাসন প্রকল্প বীরনিবাস এর নির্মাণ কাজে অনিয়মের উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এতে দেখা যায়, উক্ত উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মুদাহরপুর গ্রামে নির্মাণাধীন ২টি বীরনিবাসে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীরা। ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এই দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ধর্মপাশা ও নবসৃষ্ট মধ্যনগর উপজেলায় ৯টি বীরনিবাস নির্মাণের জন্য মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। নির্মাণ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও প্রায় এক মাস গত হতে চললেও ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। এরই মাঝে মুদাহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ আনা হল। সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয় হলোÑ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিনে নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালীন মূল ঠিকাদার বা তার কোন প্রতিনিধিকে উপস্থিত দেখতে পাননি। কার্য়এলাকায় চুন্নু নামের এক ব্যক্তিকে দেখতে পাওয়া গেছে যাকে মূল ঠিকাদার চিনেন না বলে সংবাদমাদ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মঞ্জুরুল হক সুজন বলেছেন, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে তিনি কাজটি সাব—ঠিকা দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনও একথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘কাজটি আরেক ঠিকাদার করাচ্ছেন’। অর্থাৎ মূল ঠিকাদার থেকে সাব—ঠিকাদার হয়ে তৃতীয় আরেক ঠিকাদার এখন কাজ করাচ্ছেন। তিন হাত ঘুরার পর কাজের মান যে বজায় রাখা যাবে না তা যেকোন শিশুও বুঝতে পারে। কারণ প্রত্যেকেই এই কাজ থেকে নিজের লাভের চিন্তা করবেন। তিন জনের লাভের টাকা আলাদা করার পর আর কয় টাকার কাজ হবে?
এই কাজে স্পষ্টত অনেকগুলো অভিযোগ বা অনিয়মের সন্ধান মিলে। প্রথমত মূল ঠিকাদার কোন্ ক্ষমতাবলে কাজটি নিজে না করে অন্য ব্যক্তিকে ঠিকা দিয়েছেন? কার্যাদেশ পাওয়ার পর নিজে কাজ না করে টাকার বিনিময়ে আরেকজনকে হস্তান্তর করে দেয়া নিশ্চিতভাবেই কার্যাদেশ চুক্তির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। শুরুতেই এই অনিয়ম করার ফলে পরবর্তী অনিয়ম, অর্থাৎ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগটির সূত্রপাত ঘটেছে। এজন্য মূল ঠিকাদার মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। আর উপজেলা চেয়ারম্যান যিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, একই সাথে তিনি উপজেলা পরিষদের প্রধান, তিনি কীভাবে নিজ উপজেলা এবং নিজ অধিক্ষেত্রে এমন ব্যবসায় যুক্ত হলেন? তিনি নিজ পদের দায়িত্ব—কর্তব্যের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন। আমরা ধরে নিতে পারি যে, তিনি নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। এই দায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিতে হবে।
জাতির শেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কিছু অসৎ ব্যক্তির কারণে এই ভাল কাজটি কীভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ধর্মপাশার ঘটনা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। অভিযোগ হয়েছে কেবল দুইটি ঘরের ক্ষেত্রে। আরও যে ৭টি ঘর নির্মিত হচ্ছে তার অবস্থা কী? যেহেতু ২টিতে অভিযোগ উঠেছে তাই সবগুলাই নিবিড়ভাবে তদন্তের আবশ্যিকতা রয়েছে বলে আমরা মনে করি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সম্পাদিত সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম কোনভাবেই বরদাস্ত করা উচিৎ নয়। তাই ধর্মপাশা উপজেলায় বীরনিবাস নির্মাণের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগসহ বাকি বীরনিবাসগুলোর কাজও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কাজের যথাযথ মান বজায় রাখা এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  • [১]