- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধর্মপাশার দিঘর জলমহালে জোরপূর্বক মাছ শিকারের অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার বাদে মধ্যনগর দিঘর জলমহালে অবৈধ ভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও গলহা গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ সরকার, আরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা হবি রহমান এবং তাঁর বড় ভাই মনজু মিয়ার সহায়তায় গলহা গ্রামের জেলেরা অবৈধ     মশারী জাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন। ইজারাকৃত জলমহালে অবৈধ মশারী জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আরিফপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল আজিজ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আওতাধীন বাদে মধ্যনগর দিঘর জলমহালটি ১৪২৩ বঙ্গাব্দ থেকে ১৪২৮ বঙ্গাব্দের ৩০চৈত্র চৈত্র পর্যন্ত প্রতি বছর ১৪ লাখ টাকা ইজারামূল্যে এটি ইজারা পান আরিফপুর মৎস্য জীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই জলমহালটির আয়তন ৫৫৯ একর। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও গলহা গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ সরকার, আরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা হবি রহমান এবং তাঁর বড় ভাই মনজু মিয়া ইজারাদার ও তাঁর নিয়োজিত লোকজনদের কোনো রকম পাত্তা না দিয়ে ওই জলমহালে স্থানীয় জেলেদের নিয়োজিত করে গত তিন-চার মাস ধরে সেখানে ১০/১২টি মশারী জাল পেতে অবৈধভাবে মাছ শিকার করিয়ে আসছেন। ইজারাদারের লোকজন তাদের বাধা দিতে গেলে জেলেরা তাদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আরিফপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ও বাদে মধ্যনগর দিঘর জলমহালের ইজারাদার আব্দুল আজিজ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা পরিতোষ সরকার, আরিফপুর গ্রামের হবি রহমান ও মনজু মিয়া এই তিনজন এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনি ভাবে তাঁদের নিয়োজিত লোকজন ওই জলমহালে গত তিন চার মাস ধরে মাছ লুটপাট করে আসছেন। এতে আমাদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমি ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগ নেতা পরিতোষ সরকার বলেন, হাওরের একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে এখানকার মানুষ নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করছেন। ইজারাকৃত বাদে মধ্যনগর দিঘর জলমহালে নয়, জীবন বাঁচানোর তাগিদে স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের জমিতেই মাছ শিকার করছেন। আমি জেলেদের অধিকার নিয়ে তাঁদের পক্ষে কথা বলায় ইজারাদার ও তাঁর লোকজন আমাকে জড়িয়ে নানান মিথ্যা বদনাম রটাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। অভিযুক্ত হবি রহমান ও মনজু মিয়া মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইউএনও মো.মামুন খন্দকার বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • [১]