ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর গ্রামের বাসিন্দা এমএমএ রেজা পহেল এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
২০১৯-২০ অর্থ বছরে এমএমএ রেজা পহেল ‘হিজলা সড়ক থেকে মতিউর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত’ প্রকল্পে তিন লাখ টাকার কাজ করেন। কিন্তু পরে এ প্রকল্পের বিপরীতে ৫০ হাজার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) ২ লাখ টাকা পরিশোধ করার দাবি জানান প্রকৌশলী। পিআইসি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় আর বিল দেওয়া হয়নি তাদের (পিআইসি)। এলজিইডির অধীনে উপজেলার যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের বিল উত্তোলন করতে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয় এমন অভিযোগসহ লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে এডিপি থেকে বরাদ্দকৃত ২৪, ২৬, ২৭ ও ২৮ নম্বর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা অনুরসরণ করা হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকৌশলীর টয়লেট নির্মাণ, আইপিএস ক্রয়, ডরমেটরীতে সাবমারজিবল পাম্প লাগানো, উপজেলা পরিষদের ইউটিডিসি ভবনের ছাদ ঢালাই, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস মেরামত, উপজেলা পরিষদের গ্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনক্রমে বার্ষিক থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এসব প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ দ্বারা নামমাত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই অর্থবছরে পাইকুরাটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৫০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাত করেছেন প্রকৌশলী। চকিয়াচাপুর গ্রামের সামনে গাইডওয়ালের নির্মাণ কাজ শেষ না করে এবং দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক ও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ নিম্নমানের হলেও ঘুষের বিনিময়ে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়েছে। নওধার মাদ্রাসার সামনে থেকে চকিয়াচাপুর রাস্তার আরসিসি ঢালাই নিম্নমানের হওয়ায় কাজ শেষ হতে না হতেই ভেঙে গেছে। এ প্রকল্পেও ঘুষ নিয়ে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ধর্মপাশা বাজারে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় অপরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় তা ভেঙে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ বেড়েছে। আর এ কাজে প্রকৌশলীকে ওই কার্যালয়ের হিসাব সহকারী মঞ্জু হোসেন মন্ডল সহযোগীতা করেন বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ না করে তিনি (পহেল) বিল নিতে চেয়েছিলেন। আমরা তা দিইনি। তাই তিনি অভিযোগ করেছেন। যে সমস্ত বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়, ভুয়া।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’