- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধর্মপাশায় চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় ধর্মপাশায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কিন্তু বরাদ্দ অনুপাতে সংশ্লিষ্টরা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেও জেলা প্রশাসনের তালিকায় প্রকাশিত পরিমাণের সাথে মিল না থাকায় সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা এলাকার অতিদরিদ্র, কর্মহীন বেকার জনগণের জন্য ১০ লাখ ৬০ হাজার নগদ টাকা ও ১৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০০ জন দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরনের জন্য নগদ ১ লাখ টাকা ও ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে ১৩ হাজার ৫০০, সেলবরষ ১০ হাজার ৫০০, পাইকরাটি ১৩ হাজার ৫০০, জয়শ্রী ৯ হাজার ৫০০, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ৮ হাজার, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ৪ হাজার ৫০০, মধ্যনগর ৮ হাজার ৫০০, চামরদানী ১০ হাজার, বংশীকুন্ডা উত্তর ৯ হাজার ৫০০ ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উপকারভোগীরা জনপ্রতি ১০ কেজি চাল এবং নগদ টাকায় ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি ডাল পাওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের ১৩০ জন উপকারভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল এবং ২ কেজি আলু ও ১ কেজি করে ডাল বিতরণ করা হয়েছে। মধ্যনগর ইউনিয়নে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫০০ টাকা। জনপ্রতি ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি করে ডাল (ব্যাগসহ) বিতরণ করতে খরচ পড়বে প্রায় ২৫০ টাকা। সে হিসেবে উপজেলার ১ হাজার ৫০০ উপকারভোগীর মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে নগদ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। যা বরাদ্দের তুলনায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বেশি।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘চাল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমার ইউনিয়নে যে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাতে প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ৫ কেজি আলুর স্থলে ২ কেজি আলু ও ২ কেজি ডালের স্থলে ১ কেজি ডাল বিতরণ করতে গিয়ে পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় এমনটি হয়েছে।’
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, ‘১ লাখ টাকা দেড় হাজার উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করলে ৬৬ দশমিক ৬৬ টাকা করে পড়ে। যা দিয়ে ৫ কেজি আলু ২ কেজি ডাল কেনা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এমনটি করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক অবগত রয়েছেন।’

  • [১]