ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় আনোয়ার হোসেন বুলবুল নামে এক পল্লী চিকিৎসকের হাতে সুমাইয়া ওরফে আয়শা নামের ১১ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা বাজারে সোমবার দুপুর ১২টায় শিমুল মেডিসিন কর্নারে ওই শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। সুমাইয়া ওরফে আয়শা বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কাচু মিয়ার মেয়ে। পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বুলবুল বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের সামছু উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, সুমাইয়া ওরফে আয়শার কোমরের পিছনের দিকে একটি টিউমার দেখা দেয়। সপ্তাহখানেক আগে তাকে বুলবুলের কাছে নিয়ে আসা হয়। সুমাইয়ার এই টিউমার দেখে চিকিৎসক বলেন, আগামী এক সপ্তাহ পর তাকে নিয়ে আসতে। সে এই টিউমারের চিকিৎসা করতে পারবে এবং এর জন্য তাকে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। তার কথামতো ওই শিশুর মা ও দাদা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে গাছতলা বাজারে ওই পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন। পরে পল্লী চিকিৎসক সুমাইয়ার টিউমারের অপারেশন করেন। অপারেশনে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং জ্ঞান ফিরে না আসায় ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এসময় সুমাইয়ার ওই পল্লী চিকিৎসকও তার সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এসময় ওই চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই পল্লী চিকিৎসক থানায় আটক ছিল।
সুমাইয়ার বাবা কাচু মিয়ার মঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ধর্মপাশা থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বিকেল সাড়ে ৪টায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।