এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ছেলেকে টাকা না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন লিখিতভাবে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারেক হাসানের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের টাকা ভাগাভাগির চেষ্টা, পাঠদান থেকে বিরত থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
লিখিত অভিযোগ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিদ্যালয়টিতে স্লিপের ৭০ হাজার ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্লিপের বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য ১১ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ওই ১১ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজের ছেলে মো. কাইয়ূমকে দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। টাকা না দিলে প্রধান শিক্ষককে হয়রানী করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে প্রধান শিক্ষককে হয়রানী করা হচ্ছে। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারেক হাসান প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি না করায় তারেক হাসান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের। এছাড়াও তারেক হাসানের বিরুদ্ধে হোম ভিজিট না করে অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল, বিনানুমতিতে পাঠদান থেকে বিরত থাকা, প্রাক-প্রাথমিকের পাঠদান বন্ধ রেখে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের কাছে কোনো টাকা দাবি করেননি জানিয়ে অভিযুক্ত মো. কাইয়ূম বলেন, ‘অনেক আগেই প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মের কথা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এসব থেকে বাঁচার জন্য প্রধান শিক্ষক মিথ্যে কথা বলছে।’
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক তারেক হাসান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দের টাকা ভাগ করার জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করিনি। বরং বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করার জন্য আমার স্বাক্ষর জাল করেছেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক যেভাবে শিখিয়েছেন সেভাবেই হোম ভিজিট করা হচ্ছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘সভাপতির ছেলেকে টাকা না দেওয়ায় আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। তারেক হাসান বিভিন্ন অশালীন আচরণ করছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হলে সত্য মিথ্যা যাচাই হবে। তাই দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’