ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় ডোবায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুইজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শনিবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের আহম্মদপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আহম্মদপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে বড়লামা নামক স্থানে একটি ডোবা রয়েছে। সেখানে ওই গ্রামের ওয়াফিজ তালুকদার মাছ চাষ করেন। শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী মোদাহরপুর গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (১২) সেখানে মাছ ধরতে গেলে ওয়াফিজ তালুকদার তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে মিজানুরের বড় ভাই সাজিবুর রহমান ওয়াফিজ তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সাজিবুরকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনার সংবাদ শুনে মিমাংসার জন্য সেলবরষ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মোদাহরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীনুর আহম্মদপুর বাজারে পৌঁছালে ওয়াফিজ তালুকদারের লোকজন শাহীনুরের ওপরেও হামলা চালায়। এ সময় সংঘর্ষ বেধে গেলে ইউপি সদস্য শাহীনুর, ওয়াফিজ তালুকদার, সাস্তু মিয়া, মিজানুর রহমান, দীপুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শাহীনুর ও সাস্তু মিয়াকে দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে ওয়াফিজ তালুকদারের ছেলে তোফাজ্জল জানান, শনিবার ভোরে মিজানুর মাছ ধরতে গেলে তার বাবা তাকে নিষেধ করে। পরে ওইদিন সকালে মিজানুরের পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। হামলাকারীরা তার বাবাকে গ্রামের মসজিদের সামনে পেয়ে বিদ্যুতের তার দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
সাজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই মাছ ধরতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে আমি বিচার দিতে গেলে আমাকেও মারধরা করা হয়। আমাদের মেম্বার (ইউপি সদস্য) সেখানে গেলে তাকেও মারধর করে ওয়াফিজ তালুকদারের লোকজন।’
ইউপি সদস্য মো. শাহীনুর বলেন, ‘বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য আমি সেখানে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে ওয়াফিজ তালুকদারের লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাবেক ইউপি সদস্য সাদেক মিয়াও ছিলেন।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’