- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধর্মপাশায় সামিয়ানা টানিয়ে এসএসসি পরীক্ষা

এনামুল হক, ধর্মপাশা
বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে লাল রঙের সামিয়ানা টানানো। দূর থেকে যে কেউ এখানে কোনো উৎসব চলছে ভেবে ভুল করবেন। উৎসব থাকলে হৈ হুল্লুর বা আনন্দ প্রকাশের বিভিন্ন বিষয় চোখে পড়তো। হঠাৎ করে এক দু’জন সামিয়ানার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরেই আবার সামিয়ানার ভেতরে চলে যায়। উৎসুক কেউ এগিয়ে গেলে দেখা যায় সামিয়ানার ভেতরে এসএসএসি পরীক্ষা চলছে। ১৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে সামিয়ানার ভেতর। রয়েছেন ৬ জন পরিদর্শক। রোদের তাপে কোনো কোনো পরীক্ষার্থীর ঘাম ঝরছে। আবার কেউ তৃষ্ণায় কাতর। এর মধ্যে সাদরিল নামের এক অসুস্থ পরীক্ষার্থীকে বসানো হয়েছিল সামিয়ানার নিচে। কিন্তু শরীর খারাপ করায় তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এমনটি ঘটেছে। ফলে পরীক্ষার্থীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার জন্য ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভ্যানু কেন্দ্র ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
মঙ্গলবার গণিত বিষয়ে মোট ৭৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য ১৮০ জনসহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের মোট ১৯১ জন পরীক্ষার্থী শুধুমাত্র গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে সামিয়ানা টানিয়ে ১৯১জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন রকি, শাহীন মিয়া, রনি আহম্মেদসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা দিতে তাদের খুব কষ্ট হয়েছে। রোদের তাপে পরীক্ষায় মনযোগ নষ্ট হয়েছে। অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে ১৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মুখের কথায় কখনও কখনও শব্দ দূষণ হয়েছে।
অসুস্থ পরীক্ষার্থীর বাবা সালাউদ্দিন মাহতাব বলেন, ‘সাদরিল আগে থেকেই অসুস্থ। তবে সামিয়ানার নিচে বসিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর কারণে রোদের তাপে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।’
পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভবনে জায়গা না হওয়ায় সাতটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যৌথ উদ্যোগ ও প্রশাসনের নির্দেশক্রমে সামিয়ানা টানিয়ে এভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘জায়গার সমস্যার কারণে প্রশাসন ও পরীক্ষা কমিটির সহযোগিতায় বাইরে একটি প্যান্ডেল করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছি। এই ভ্যানু কেন্দ্রে আরেকটি ভবন থাকলে আসন সমস্যা থাকতো না।’

  • [১]