ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করে কৃষকদের কপালে হাত পড়েছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায় ব্রি-২৮ জাতের ধানে ব্যাপকভাবে চিটা হয়েছে। অর্থা বাইরে ধানের খোশা দেখা গেলেও ভিতরে চাউল নেই। সংক্রামক ব্লাস্ট রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে এই জাতের ধান। হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধানের চাষ হয় ব্যাপকভাবে। ব্রি-২৮ আগাম কাটা যায় এবং চালের মান ভালো হয় বলে এতে কৃষকদের ব্যাপক উৎসাহ। কিন্তু কৃষকরা জানেন না, এই জাতের ধানের উৎপাদনশীলতা এখন অনেক কমে গেছে। ১৯৯৪ সনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিিিটউট ধানের এই জাত উদ্ভাবন করে। উদ্ভাবনের পর ইতোমধ্যে ২৮ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন এই জাতটি পুরনো হওয়ায় তারা কৃষকদের ব্রি ২৮ ও ২৯ চাষ করার পরিবর্তে ব্রি-৮৮, ৯৬, ১০০, ৮৯, ৯২, বিনা-২৪, বিনা-২৫ প্রভৃতি জাতের ধান চাষ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে তাদের এই জরুরি বার্তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিকট ভালো করে পৌঁছাতে পারেনি এখনও ব্যাপকভাবে ব্রি-২৮ ও ২৯ চাষ করা এর বড় প্রমাণ। বিএডিসি’র বীজ বিভাগ থেকে কৃষক পর্যায়ে এই ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়। তাঁরা বলছেন, কৃষকদের নিকট জনপ্রিয় হওয়ার কারণে এই বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই জাতের ধানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি না কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর না বিএডিসি কৃষকদের নিকট পৌঁছাতে পেরেছে। আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের এ হলো বিশেষ দূর্বল দিক। কৃষকরা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলে মাঠে এই জাতের আধিক্য দেখা যেত না।
ব্রি-২৮ ও ২৯ চাষে নিরুৎসাহিতকরণের কথা কৃষি কর্মকর্তারা বললেও আমরা অনলাইন ঘেঁটে এরকম বার্তা আবিষ্কারে ব্যর্থ হয়েছি। তার মানে এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারযোগ্য কোনো বার্তা নয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা হচ্ছে। দেশে ব্রি ও বীনা এ নিয়ে কাজ করছে এবং বেশকিছু নতুন জাত উদ্ভাবনে সমর্থ হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মিটাতে ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু পৃথিবীর বহু দেশের তুলনায় আমরা হেক্টর প্রতি ফলনে পিছিয়ে আছি। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে চীনের হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৬.৮৯ টন। সেখানে ভারতের ছিলো ৩.৬০ টন, ইন্দোনেশিয়ায় ৪.৭১ টন । বাংলাদেশেও এ সময়ে হেক্টর প্রতি ৪.৭১ টন উৎপাদনের হিসাব পাওয়া যায়। একই সময়ে ভিয়েতনামের উৎপাদনশীলতা ছিলো ৫.৭৩ টন। ফিলিপাইনে ৬.৬৪ টন, ব্রাজিলে ৫.২৮ টন। আমাদের হেক্টরপ্রতি উৎপাদনশীলতা মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ আমাদেরও উৎপাদনশীলনা বাড়ানোর সুযোগ আছে। আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও নিরলস কাজ করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে। জলবায়ু সহিষ্ণুতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা মিলিয়ে আমাদের কৃষকদের সবচাইতে উপযোগী ধান চাষের পরামর্শ দিতে হবে। বছর বছর জমি কমছে, বাড়ছে মানুষ। সুতরাং উৎপাদন বাড়াতেই হবে এবং সীমিত জমিতে ফলাতে হবে সর্বোচ্চ ফসল। হাওর অঞ্চল নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। হাওরে এখন কেবল একটি মাত্র ফসল চাষ করা যায়। হাওরের উৎপাদনশীলতা বছরব্যাপী কীভাবে বজায় রাখা যায় তার উপায় বের করা একটি বড় কাজ।
ব্রি ২৮ চাষ করে যে কৃষকরা এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যেতে হবে। অনেক কৃষক পুঁজি হারিয়ে দেনাগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁরা যাতে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা কাম্য। কারণ এই কৃষকরাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
ধানকে রাখতে
হবে ঝুঁকিমুক্ত
ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করে কৃষকদের কপালে হাত পড়েছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায় ব্রি-২৮ জাতের ধানে ব্যাপকভাবে চিটা হয়েছে। অর্থা বাইরে ধানের খোশা দেখা গেলেও ভিতরে চাউল নেই। সংক্রামক ব্লাস্ট রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে এই জাতের ধান। হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধানের চাষ হয় ব্যাপকভাবে। ব্রি-২৮ আগাম কাটা যায় এবং চালের মান ভালো হয় বলে এতে কৃষকদের ব্যাপক উৎসাহ। কিন্তু কৃষকরা জানেন না, এই জাতের ধানের উৎপাদনশীলতা এখন অনেক কমে গেছে। ১৯৯৪ সনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিিিটউট ধানের এই জাত উদ্ভাবন করে। উদ্ভাবনের পর ইতোমধ্যে ২৮ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন এই জাতটি পুরনো হওয়ায় তারা কৃষকদের ব্রি ২৮ ও ২৯ চাষ করার পরিবর্তে ব্রি-৮৮, ৯৬, ১০০, ৮৯, ৯২, বিনা-২৪, বিনা-২৫ প্রভৃতি জাতের ধান চাষ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে তাদের এই জরুরি বার্তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিকট ভালো করে পৌঁছাতে পারেনি এখনও ব্যাপকভাবে ব্রি-২৮ ও ২৯ চাষ করা এর বড় প্রমাণ। বিএডিসি’র বীজ বিভাগ থেকে কৃষক পর্যায়ে এই ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়। তাঁরা বলছেন, কৃষকদের নিকট জনপ্রিয় হওয়ার কারণে এই বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই জাতের ধানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি না কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর না বিএডিসি কৃষকদের নিকট পৌঁছাতে পেরেছে। আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের এ হলো বিশেষ দূর্বল দিক। কৃষকরা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলে মাঠে এই জাতের আধিক্য দেখা যেত না।
ব্রি-২৮ ও ২৯ চাষে নিরুৎসাহিতকরণের কথা কৃষি কর্মকর্তারা বললেও আমরা অনলাইন ঘেঁটে এরকম বার্তা আবিষ্কারে ব্যর্থ হয়েছি। তার মানে এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারযোগ্য কোনো বার্তা নয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা হচ্ছে। দেশে ব্রি ও বীনা এ নিয়ে কাজ করছে এবং বেশকিছু নতুন জাত উদ্ভাবনে সমর্থ হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মিটাতে ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু পৃথিবীর বহু দেশের তুলনায় আমরা হেক্টর প্রতি ফলনে পিছিয়ে আছি। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে চীনের হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৬.৮৯ টন। সেখানে ভারতের ছিলো ৩.৬০ টন, ইন্দোনেশিয়ায় ৪.৭১ টন । বাংলাদেশেও এ সময়ে হেক্টর প্রতি ৪.৭১ টন উৎপাদনের হিসাব পাওয়া যায়। একই সময়ে ভিয়েতনামের উৎপাদনশীলতা ছিলো ৫.৭৩ টন। ফিলিপাইনে ৬.৬৪ টন, ব্রাজিলে ৫.২৮ টন। আমাদের হেক্টরপ্রতি উৎপাদনশীলতা মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ আমাদেরও উৎপাদনশীলনা বাড়ানোর সুযোগ আছে। আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও নিরলস কাজ করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে। জলবায়ু সহিষ্ণুতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা মিলিয়ে আমাদের কৃষকদের সবচাইতে উপযোগী ধান চাষের পরামর্শ দিতে হবে। বছর বছর জমি কমছে, বাড়ছে মানুষ। সুতরাং উৎপাদন বাড়াতেই হবে এবং সীমিত জমিতে ফলাতে হবে সর্বোচ্চ ফসল। হাওর অঞ্চল নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। হাওরে এখন কেবল একটি মাত্র ফসল চাষ করা যায়। হাওরের উৎপাদনশীলতা বছরব্যাপী কীভাবে বজায় রাখা যায় তার উপায় বের করা একটি বড় কাজ।
ব্রি ২৮ চাষ করে যে কৃষকরা এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যেতে হবে। অনেক কৃষক পুঁজি হারিয়ে দেনাগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁরা যাতে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা কাম্য। কারণ এই কৃষকরাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।