রাসেল আহমদ, মধ্যনগর
মধ্যনগর উপজেলার হাওরে পুরোদমে চলছে ধান কাটা। চারিদিকে সাজ সাজ রব। উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। সারাবছরের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কষ্টের ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে চায় কৃষকরা। তাই কৃষকের কাছে এ সময়টা যে কোনো আনন্দ -উৎসবের চেয়ে বেশি মূল্যবান।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আগামী ২৩ এপ্রিলের পর ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। কৃষকেরাও এর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জমির ধান কাটা শেষ করতে চায়। এজন্য হাওর জনপদে ঈদের আমেজ-অনুভূতিতেও পড়েছে ভাটা। কৃষক- কৃষাণীরা তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মেতেছে ধান কাটা উৎসবে। ধান উৎসবে মাতোয়ারা কৃষকের কাছে ঈদের অনুভূতি পাচ্ছে না ঠাঁই।
স্থানীয় কৃষকেরা জানায়, এবছর ব্রি ২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণে অপূরণীয় ক্ষতি হলেও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় তারা অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। ক্ষয়ক্ষতি বাদে যা আছে, সেটুকু নিরাপদে গোলাজাত করতে পারলেই তারা খুশী।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরে এখন ঝিরিঝিরি বাতাসে দোলছে সোনা রঙের ধান। ধানের সেই রঙে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। সেই সাথে ধানের শীষের মৃদু ঝংকার কৃষকের হৃদয়ে তুলেছে আনন্দের ঢেউ।
উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুড়ির হাওরের কৃষক আবদুল খালেক বলেন, চার পাঁচ দিনের মধ্যে এ হাওরের শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে। এই মুহূর্তে খেতের ধান গোলায় তোলাই বড় আনন্দ। তাই এখনই ঈদ নিয়ে তিনি ভাবছেন না।
এদিকে ঈদের কেনাকাটায়ও প্রভাব পড়েছে ধান কাটা উৎসবের। উপজেলার ছোট বড় হাট- বাজারে লোক সমাগম হচ্ছে কম। ফলে ক্রেতা শূন্য অলস সময় কাটছে এসব বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত ঈদ উপলক্ষে এসব হাট-বাজারে কাপড়-চোপড়, প্রসাধনী সামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বেচাকেনা বেশি হয়। সেই আশায় ব্যবসায়ীদেরও থাকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। চাহিদা অনুযায়ী পণ্যসামগ্রী আগে থেকেই মজুদ রাখে তারা।
মধ্যনগর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী জসীমউদ্দিন জানান, অন্যান্য ঈদের মতো এবার বিক্রি নাই। সারাদিন গরমের মাঝে বসে থাকি ক্রেতার আশায়। কোনও দিন দুই-চারটা বিক্রি হয়, আবার হয়ও না। বাজারে লোকজন আসছেই না।
এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো হাওরে ধান কাটার মৌসুম। এসময়ে কৃষি নির্ভর এই এলাকার সকলেই ধান কাটা, মাড়াই করা, রোদে শুকানো, সিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত থাকে। এজন্য ঈদের বাজার জমছে না। তবে ঈদের ১-২ দিন আগে ক্রেতারা বাজারমুখী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
মধ্যনগরের পার্শ্ববর্তী বিশরপাশা বাজারের আরেক কাপড় ব্যবসায়ী মিশন মিয়া ও একই কথা বললেন। তবে তিনি আশংকা করছেন, এবারের ঈদে কাপড় কেনা-বেচা একেবারেই কম হবে। কারণ এবছর কৃষক সস্তায় ধান বেচতে চাইছে না। যার ফলে, এবার ঈদটা কোনভাবে পার করতে চাইবে সবাই।
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তা কৃষকদের জানানো হয়েছে। ধান কাটা চলছে দ্রুত গতিতে। আশা করা যায়, আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে ঝুঁকি পূর্ণ হাওরের ৯৫ভাগ ধান কাটা শেষ হবে। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমির ধান কাটতে বিলম্বিত হলেও সম্ভাব্য দুর্যোগে এর তেমন ক্ষতি হবে না।