- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধারারগাঁওয়ের সুরমা ভেলী পার্কের কাজ এখনও শেষ হয়নি

আকরাম উদ্দিন
ধারারগাঁওয়ের সুরমা ভেলী পার্কের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৩ বছরেও শেষ হয়নি। শহরতলীর ধারারগাঁও এলাকায় এই পার্ক নির্মাণে ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত বছরের জুন মাসে পার্কের নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন জানিয়েছেন, কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পার্কের অবশিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় টেন্ডার করা হয়েছে। শীঘ্রই পার্কের কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে। নদীরপাড় এলাকায় প্রায় ৩ ফুট উঁচু করে দেয়াল নির্মাণসহ ফুটপাতের রাস্তা নির্মাণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এসব কাজ পরিকল্পনাধীন আছে। ধারারগাঁও গ্রামের সুরমা নদীর তীরবর্তী তিন একর জায়গায় এই পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল সাড়ে ৩ বছর আগে। পার্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণসহ নদী ভাঙ্গন রুখতে প্রকল্প কাজে নদী শাসন কাজও অন্তর্ভূক্ত ছিল। এ জন্য পার্কের লাগুয়া নদীর তীরে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার       
সরেজমিনে পার্ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পার্কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন রোধে স্থাপিত সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু হয়েছে। ৩ স্থানে ব্লক ধ্বসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বৃষ্টির পানিতে মাটিও চলে যাচ্ছে নদীতে।
২০১৩ সালের ৫ জুলাই সুরমা ভেলী পার্কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।
সুরমা ভেলী পার্কের প্রবেশ দ্বারে নোংরা অপরিচ্ছন্ন কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ৩ দিকের বাউন্ডারী দেয়াল নেই। বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের জন্য কয়েকটি পিলার বসানো ছাড়া আর কোন কাজ হয়নি। দৃষ্টিনন্দন কোনো স্থাপনা নেই। পার্কে প্রবেশের গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। ছোট ছোট কয়েকটি গাছ লাগানো হয়েছে। ২১ টি বসার আসন রয়েছে। পার্কের পূর্বদিকের সীমানার ভেতরে রইছ উদ্দিনের বাড়ির সীমানা পর্যন্ত মাটি ভরাট নেই। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত রয়েছে। পুরো পার্ক এলাকা জুড়ে রয়েছে উঁচু নিচু ও ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। পুরো পার্ক এলাকা বৃক্ষ শূন্য রয়েছে।   
ধারারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল হক বলেন, ‘আমার এলাকায় সুরমা ভেলী পার্ক হয়েছে। এটা আমাদের সম্পদ। কিন্তু পার্কের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় ধ্বসে পড়ছে নদীরপাড়ে স্থাপিত সিসি ব্লক। পার্কের বাউন্ডারী নেই। পরিবারবর্গ নিয়ে সুস্থ পরিবেশে বসার ব্যবস্থা নেই। জরুরিভিত্তিতে এই পার্কের কাজ শেষ করা উচিৎ।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবু তাহের বলেন, ‘সুরমা ভেলী পার্কের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করে যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক দাস বলেন, ‘আগের মেসার্স পি.টি.এন্টারপ্রাইজ এবং এন.এন কন্ট্রাকশন জেবি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে পার্কের অবশিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় এই মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে আগামী মাসে পার্কের কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত পার্কের কাজ শেষ করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

  • [১]