- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ধোপাজান চলতি নদী বালু পাথর উত্তোলন বন্ধে লাখো শ্রমিকের দুর্বিষহ জীবন

আকরাম উদ্দিন
সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অবস্থিত ধোপাজান চলতি। এই নদীতে দীর্ঘ দুই বছর যাবত আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় লাখো শ্রমিক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। দুই উপজেলার বেশিরভাগ শ্রমজীবী মানুষ পরিবারের ভরণপোষন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। চলতি নদীতে আইনানুগভাবে বালু পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এসব শ্রমিকেরা।
ধোপাজান চলতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর, সদরগড়, আমিরপুর, কুরুতলা, অক্ষয়নগর, সৈয়দপুর, মুসলিমপুর, বালাকান্দা, হুড়ারকান্দা, সাহেবনগর, কাইয়ারগাঁও, পূর্ব ডলুরাসহ অন্যান্য গ্রামের শ্রমিকেরা এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক, জিনারপুর, আদাং, মথুরকান্দি, পশ্চিম ডলুরা গ্রামসহ অন্যান্য গ্রামের শ্রমিকেরা এবং অন্যান্য উপজেলা ও বাইরের জেলার শ্রমিকেরা কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে থাকেন।
স্থানীয় একাধিক শ্রমিক জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নৌকা, বাল্কহেড বা কার্গো লোড আন লোডে শ্রমিকের কাজ করে আসছেন তারা। পরিবারের একাধিক সদস্য এই শ্রমিকের কাজ করেই জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীতে লোড আনলোড ও বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে আছে। এই কারণে পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন খরচ যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের। অন্যত্র চাকুরিও পাচ্ছেন না তারা।
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁওয়ের বাসিন্দা শ্রমিক ইউসুফ আলী বলেন, ধোপাজান চলতি নদীতে দীর্ঘ দুই বছর যাবত বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় আমরা বেকার জীবন যাপন করে আসছি। চলতি নদীতে দ্রুত বালু পাথর উত্তোলনের সুযোগ প্রদানের দাবি আমাদের।
পূর্ব ডলুরা গ্রামের মনির মিয়া বলেন, ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ। এই কারণে লাখো শ্রমিক এখন বেকার। শ্রমিকেরা কেউ চাকুরিও পাচ্ছে না। সংসার খরচের টাকা নেই। সন্তানদের লেখাপড়া করানোরও টাকা নেই।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আদাং গ্রামের শ্রমিক আতাউর রহমান বলেন, ধোপাজান চলতি নদীর উপর হাজারো পরিবারের জীবন জীবীকা। দীর্ঘ দুই বছর যাবত নদীতে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।
ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, বালু পাথরের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। শ্রমিক ব্যবসায়ী সবাই মানবেতর জীবন যাপন করে আসছি। ধোপাজান চলতি নদী খুলে দেওয়ার দাবি আমাদের।
ফারুক আহমদ বলেন, যুগ যুগ ধরে আমাদের রিজিকের উৎস ধোপাজান চলতি নদী। দীর্ঘদিন ধরে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন খরচপাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুকশেদ আলী বলেন, সরকারী নিষেধাজ্ঞায় ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ। প্রায় দুই বছর যাবত নদীতে বালু পাথর উত্তোলনও বন্ধ। যারা নদীতে বালু পাথর উত্তোলনে শ্রমিকের কাজ করেন, তারা সবই এখন বেকার। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মহা সমস্যায় আছেন।
সলুকাবাদ ইউপি সদস্য মো. শাহপরান বলেন, ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর উত্তোলন করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। ধোপাজান চলতি নদী বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। নদীতে শ্রমিকদের বালু পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া জরুরি প্রয়োজন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সফর আলী বলেন, ধোপাজান চলতি নদীতে লাখো মানুষ কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতো। এখন নদীতে বালু পাথর উত্তেলন বন্ধ থাকায় সকল শ্রমিকেরা বেকার জীবন যাপন করছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, ধোপাজান চলতি নদী নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা আছে। এই মামলা নিষ্পত্তি হলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • [১]