স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণে নকশা পরিবর্তন করে কম কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। রবিবার এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন গৃহ প্রাপ্ত বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা উজান তাহিরপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন, হামিদ মিয়া ও মধ্য তাহিরপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলীর সন্তান শাওন মিয়া সহ একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, ঘর নির্মাণের আসল নকশার নীচ অংশে কালো কালি দিয়ে মূল নকশাটিকে মুছে নকশা থেকে ভবনের কিছু অংশ বাদ দিয়ে কাজ শুরু করে ঠিকাদার। এতে ভবনের নীচে বাদ পরে ভবনের সব কটি পিলার, সিসি, বেইজ এবং বালি ফিলিং। রবিবার সরজমিনে মধ্য তাহিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। ঠিকাদার কিছু মাটি গর্ত করে ইট দিয়ে কিছু কাজ করে রেখেছেন।
অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানান, বিষয়টি তারা প্রথমে বুঝতে পারেন নি। পরবর্তীতে ঠিকাদারের লুকোচুরি করে কাজ করার বিষয়টি সন্দেহ হলে গৃহ প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েক জন মিলে সুনামগঞ্জ থেকে একটি নকশা সংগ্রহ করেন। সংগ্রহের পর দেখা যায় ঠিকাদার যে নকশা দিয়ে কাজ করছে সেটির সাথে সংগ্রহকৃত নকশার কোন মিল নেই। তা দেখে সাময়িক ভাবে গৃহ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য ঠিকাদারদের তারা বলেন। কয়েকদিন হলো কাজ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প অফিসের সাথে যোগ সূত্র করে শুধু নকশা পরিবর্তন করেই নয় গৃহ নির্মাণের সার্বিক কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন।
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রণালয় তাহিরপুর উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ১২টি গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। নভেম্বর মাসে দরপত্র আহবান করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। ১৪ নভেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে লটারিতে ১২টি গৃহ নির্মাণের কাজ পায় জে আর এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জ। প্রতিটি গৃহের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৩ লক্ষ টাকা। ১২টি গৃহ নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদার তাহিরপুর সদরে একসাথে ৬টি গৃহের কাজ শুরু করেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জে আর এন্টারপ্রাইজ এর মালিক রিপন মিয়া বলেন, আমাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম যে নকশা দিয়েছেন আমি সে নকশা অনুয়ায়ী কাজ করছি। তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেছেন বিশ্বম্ভরপুরেও একই ভাবে কাজ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের এক প্রকৌশলী জানান, ভবনের নীচ অংশ পিলার, বেইজ, সিসি সহ ৬ ফিটের মত কাজ রয়েছে। এগুলো বাদ দিয়ে কাজ করলে ভবন যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে।
তাহিরপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করে দিচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণে নকশা অনুযায়ী সঠিক কাজ করতে হবে।
গৃহ প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার উজান তাহিরপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঠিকাদার গৃহ নির্মাণে নয় ছয় শুরু করেছে। রতনশ্রী গ্রামের আমার এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাই জালাল মিয়ার গৃহ নির্মাণে সঠিক নকশা অনুযায়ি কাজ করছে ঠিকাদার। কিন্তু আমাদের উজান তাহিরপুর, মধ্য তাহিরপুর ও সূর্য্যরেগাঁও গ্রামে ৪টি গৃহ নির্মাণে তারা তাদের ইচ্ছে মত নকশা তৈরী করে কাজ করছে। আমরা জানতে পেরে তাদের কাজ বন্ধ রাখার কথা বলছি। বিষয়টি তিনি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহোদয় কে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম’র মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গৃহ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবানের পর কোটেশনে জনৈক এক ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে দেন। পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলার একাধিক গণমাধ্যম কর্মীদের তোপের মুখে লটারির ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির সাংবাদিকদের জানান, নকশার বিষয়টি আমি অবগত নই। প্রকল্প কর্মকর্তা পিআইওর সাথে বসে কথা বলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি জানান।