- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে পাকিস্তানীরা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতেই বিজয়ে প্রাক্কালে জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডে পাকসেনাদের সঙ্গে যোগ দেয় তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসরা। এখনো পাকিস্তানী প্রেতাত্মাদের বীজ এই মাটিতে রয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। এই দেশকে মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় এগিয়ে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সুনামগঞ্জের শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. সোনাহর আলীর দুই মেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানা এবং কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সোনাহর আলীর আরও তিন সন্তান আইনজীবী রাশিদা সাহিদা বেগম, শিক্ষক ফৌজি আরা বেগম শাম্মী ও আইনজীবী মো. শামছুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে শহীদ পিতার কিছু স্মৃতিস্মারক সুনামগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেন তাঁরা।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান প্রমুখ।
সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানা তার বক্তব্যে বলেন ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমার বাবার সঙ্গে আমার নয় বছর বয়সী ছোট বোন সিতারা বেগমকেও গুলি করে হত্যা করে। সিতারা বাঁচার জন্য পাকসেনাদের কাছে কত আকুতি করেছে। কিন্তু নির্দয়-বর্বর পাকসেনাদের মন গলেনি। যুদ্ধের পর ছোট ছোট পাঁচ সন্তানকে নিয়ে আরেক যুদ্ধের মুখে পড়েন মা রসিদা খানম। স্বামী-সন্তান হারানোর কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি আমাদের মানুষ করেছেন।’ জেসমিন আরা বেগম বলেন,‘বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাবার জন্য আমার গর্ব করি। কিন্তু স্বীকৃতি পাননি এমন অনেক আছেন যাঁরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। যথাযথ সম্মান দিতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানীরা নিশ্চিত পরাজয় জেনেই দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে। এই জাতিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল তারা। তাদের ঘর থেকে ধরে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ সহায়তা করে পাকবাহিনীর এ দেশীয় দোসরেরা। মনে রাখতে হবে পাকিস্তানী হানাদারেরা এই দেশ ছেড়ে গেলেও তাদের দোসরেরা এখনো আছে। তাদের বীজ রয়েছে এই মাটিতে। সুতরাং তারা যাতে এই দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে কখনো সরাতে না পারে সে জন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।
এদিকে সকাল ৮ টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, সিভিল সার্জন আশুতোষ দাস, সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাবেরা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শফিউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মালেক পীর প্রমুখ।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, এলজিইডি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, খেলাঘর, কর্নিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন । এরপর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শহীদের রক্তে রঞ্জিত পিটিআই বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক । এসময় তিনি বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার সকল বধ্যভূমি চিহ্নিতপূর্বক ফলক স্থাপন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার সুধীজনদের সাথে আলোচনাক্রমে সকল বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের রয়েছে।
IMG_20171214_112438সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
সকাল ১০টায় কলেজের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্যে দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর ‘বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- : প্রেক্ষিতে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ইফতেখার আলম, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সালেহ আহমদ, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুছ ছত্তার ও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকম-লি। বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. নূর এ আলম।  
25360501_1347644112025175_1জেলা উদীচী
সন্ধ্যায় শহরের পিটিআই বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোক প্রজ্জ্বলন করেছে জেলা উদীচী। এসময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, জেলা উদীচীর সহ সভাপতি অভিজিৎ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম, কোষাধ্যক্ষ চন্দন রায়, সদস্য মানবেন্দ্র চৌধুরী, মোত্তালেব চৌধুরী, আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক মো. মাইনুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিত রায়, চন্দনা পাল, পুলক রাজ, সৌমিত্র সাগর, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তারেক চৌধুরী, পুলক তালুকদার।  
25443144_1173393382792433_4চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম (শাহানা রব্বানী), কুমিল্লা জেলার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজামান প্রমুখ।
জেলা ছাত্র ইউনিয়ন
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন। বিকাল ৪টায় সংগঠনের কার্যালয়ে জেলা শাখার সভাপতি তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পুলক তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক এনামুল কবির, শহর সংসদের সাধারণ সম্পাদক দুর্যোধন দাস, জেলা সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পাপ্পু সরকার, কলেজ সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নিমাই সরকার, ছাত্র নেতা মনির হোসেন প্রমুখ।
DSCN9623প্রথম আলো বন্ধুসভা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের স্মরণে সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের কল্যাণে কাজ করার শপথ নেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
কর্মসূচি পালনকালে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহসভাপতি মো. হায়দার আলী, কৃষকনেতা আবদুল কাইয়ুম, বন্ধুসভার সদস্য রাজীব দেব, শফিকুল ইসলাম, রিতা আচার্য, সাহাব উদ্দিন, শাহিদুর রহমান, পারুল আক্তার, রুবেল পাল, জাকিরুল হক মান্না, তাজকিরা হক তাজিন, কঙ্কজ সরকার, জাকের আহমদ, বিধু সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

  • [১]