সজীব দে
‘নতুন বছর নতুন দিন, নতুন বইয়ে হোক রঙিন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলায় একযোগে বই উৎসব পালিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৃথক পৃথক আয়োজনে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই তুলে দেওয়া হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদ্ভাসিত হয়েছিল শিক্ষার্থীদের হাসির আলোয়। প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয় এদিন। নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা।
পৌর শহরের কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুর রহিম বাবর, কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, আমরা যখন পড়াশুনা করেছি তখন কেউ বছরের প্রথম দিন আমাদের হাতে নতুন বই তুলে দিত না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদেরকে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই উপহার দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, জেলায় শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে ৪ লক্ষেরও বেশি নতুন বই আজকে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে দিচ্ছি। এটি আমাদের একটি বিশাল অর্জন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রাথমিক স্তরের ২ হাজার ১০০ বিদ্যালয়ে একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৩শত ২৮টি। প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৯ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮শত ৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই বই বিতরণ করা হয়। এছাড়াও প্রাক প্রাথমিক স্তরে ৬৮ হাজার ১৮ শিক্ষার্থীর মাঝে ৬৮ হাজার ১৮ সেট বই বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণের মধ্যে দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ হাসান মাশহুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালেয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়েজুর রহমানসহ সহকারি শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৮শত ৮৪ জনের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। এক যোগে সম্পূর্ণ উপজেলায় ৩৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১০১ বই বিতরণ করা হয়।
জেলার ২৫২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯৩টি মাদ্রাসা, ২টি ইংরেজী ভার্সনের বিদ্যালয়, দাখিল (ভোকেশনাল) ১টি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ১৫টি বিদ্যালয়ে এই বই বিতরণ করা হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বই উৎসবের প্রথম দিনেই আমরা ৯৯.৯৯ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছি।
এদিকে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় (পঞ্চম পর্যায়) প্রাক প্রাথমিক ১৪৪টি, ৬টি গীতা কেন্দ্র ও ৫টি বয়স্ক কেন্দ্র সহ জেলার ১৫৫টি কেন্দ্রে শিশুদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। সকালে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি নাট মন্দিরে প্রধান অতিথি হিসাবে বই বিতরণের উদ্বোধন করেন সাংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।
এসময় শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে যোগেশ^র দাশ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (পঞ্চম পর্যায়) এর জেলা প্রকল্প পরিচালক রবিন আচার্য্য, ট্রাস্ট্রের প্রতিনিধি ও জেলা মনিটরিং কমিটির সদস্য সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, কম্পিউটার অপারেটর যীশু কুমার দাস, ফিল্ড সুপারভাইজার প্রহ্লাদ কুমার সহ কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে নতুন পাঠ্য বই বিতরণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসকের সহধর্মীনি নাহিদ আফরোজ সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর সহধর্মিনী সারা ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট ডা. তানজিন হক। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফাত উল হক চৌধুরী।
দ্বীনি সিনিয়র ফাজিল মডেল মাদ্রাসা
শহরের দ্বীনি সিনিয়র ফাজিল মডেল মাদ্রাসায় বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে মাদ্রা মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. আলী নুর। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুশ শহীদ গাজী ও নুর আলম।