- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নদীর পানিতে নির্বিচারে বিষ প্রয়োগ

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা নদীতে কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগে মাছ শিকার চলছে। প্রতিদিনই নদী তীরের বিভিন্ন এলাকায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় লঞ্চঘাট এলাকায় বিষ প্রয়োগের কারণে চিংড়ি মাছ লাফিয়ে উঠেছিল শুকনায়। উপস্থিত লোকজনকে এসময় নদীর তীর থেকে মাছ ধরতে দেখা যায়। কিন্তু কে এই বিষ প্রয়োগ করেছে তা কেউ বলতে পারেননি।
কীটনাশক বিষ প্রয়োগে শুকনায় লাফিয়ে উঠে চিংড়ি ও কাঁকড়া। অন্যান্য প্রজাতির মাছ পানিতে তলিতে যায়। পরে মরে ভেসে উঠে পানিতে। এভাবে বিষ প্রয়োগে মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎসজীবীরা।
ফসলি জমিতে পোকা-মাকড় নিধনে এরেনাফস, লিম্পার, ইফেক্ট, সাইপারমেথ্রিন, বাইমেথ্রিন, সিনসাইপার জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করেন কৃষকেরা। গত কয়েক বছর ধরে শীত মওসুমে নদীতে ¯্রােত কমে আসলেই এক শ্রেণীর মাছ শিকারীরা এই কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। মাছ শিকারে এই বিষ যে স্থানে প্রয়োগ করা হয়, সেই স্থান থেকে নদীর তীরের প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত বিষক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে। বিষমাখা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির ¯্রােত যখন ধীরে ধীরে ভাটিতে চলে যায়, সেই সময় চিংড়ি মাছ ও কাঁকড়া শুকনায় লাফিয়ে উঠে অথবা নদীর কিনারে ভেসে উঠে। অন্যান্য আহত মাছ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে মাছ মরে ভেসে উঠে পানিতে। এই সময় বিষের দুর্গন্ধে নদীর পানি কেউ ব্যবহার করতে পারেন না।
এবারও সুরমা নদীর বিভিন্ন এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে চিংড়ি ও কাঁকড়া শিকার করছেন একশ্রেণীর লোভী মাছ শিকারীরা।
সদর উপজেলার নদীর তীরবর্তী ব্রাহ্মণগাঁও, বল্লবপুর, রহমতপুর, নবীনগর, উকিলপাড়া, সদরগড়, ইব্রাহীমপুর, আছিনপুর, ওয়েজখালী, পুরান লক্ষণশ্রী, মোহনপুর, পৈন্দাসহ নদী তীরবর্তী এলাকায় শুকনা মওসুমে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হয় বলে জানিয়েছেন শহরের আরপিননগরের আলাউর রহমান, ব্রাহ্মণগাঁওয়ের হুঁশিয়ার আলী, টুকেরগাঁওয়ের নানু মিয়া, পৈন্দা গ্রামের মঞ্জুর আলী, মোহনপুরের বাচ্চু মিয়া, পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের ভুষণ বর্মণ, নবীনগরের কামিনী বর্মণসহ একাধিক মৎসজীবী।
লঞ্চঘাট এলাকার কাবিরুল ইসলাম বলেন,‘বুধবার রাতে কেউ নদীর পানিতে বিষ দিয়েছে। এই কারণে নদীর কিনারে চিংড়ি মাছ ভেসে উঠেছিল এবং লাফিয়ে উঠেছিল শুকনায়। অনেকে নদীর তীরে চিংড়ি মাছ হাত দিয়ে ধরেছেন, আমিও ধরেছি।’
সদর উপজেলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আলাউর রহমান বলেন,‘প্রতি বছর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হয়। আমরা সকল স্থানে বলে রেখেছি, যারা বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে তাদের চিহ্নিত করতে। পরে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো। নদীতে বিষের প্রয়োগ বন্ধ না করলে মাছের বংশ ধ্বংস হবে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন,‘সুরমা নদীতে মাছ শিকারে বিষ ব্যবহার নিষেধ করেছি। যারা এই নিষেধ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়ে সচেতনামূলক সভা করে করেছি। বুধবারও মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই বিষয়ে সভা করেছি।’

  • [১]