- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নদী তীরে ময়লার ভাগাড়

আকরাম উদ্দিন
শহর এলাকায় সুরমা নদীর তীর এখন ময়লার ভাগাড়। নদীর তীরে বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলা, বাসা-বাড়ির বাথরুমের পানি ও রাস্তার ড্রেনেজ লাইনের ময়লা নির্গত হওয়ায় পানি নোংরা হচ্ছে। এই কারণে সাংসারিক কাজে পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি পরিবেশবাদী সংগঠনের। তাই নদীর তীর রক্ষায় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতনমহলের।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সাহেববাড়ি সেলুঘাটের নদীর তীর এলাকা, উত্তর আরপিননগর
নদীর তীর এলাকা, পশ্চিমবাজার, মধ্যবাজার, চাঁদনীঘাট, সুরমা হকার্স মার্কেট সংলগ্ন নদীর তীর এলাকা, জগন্নাথবাড়ি নদীর তীর এলাকা, প্রধান মাছ বাজার এলাকা, জেলরোড ফেরিঘাট এলাকা, লঞ্চঘাট এলাকা, উকিলপাড়া এলাকা, ষোলঘর নদীর তীর এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এসব ময়লার স্তুপ থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
আরপিননগর এলাকার শামীম আহমদ ও সাজু আহমদ বলেন, ‘নদীর পানি প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতে হয় আমাদের। নদীর তীরে যদি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, তখন পানি দূষিত হয়। পানি কেউ ব্যবহার করতে পারেন না। পঁচা দুর্গন্ধ বের হয়। এতে রোগ জীবাণুও সৃষ্টি হয়। তাই নদীর তীরের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ জরুরি প্রয়োজন।’
লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন,‘যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মশা-মাছির জন্ম হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ নষ্ট হয় এবং রোগেরও সৃষ্টি হয়। তাই ময়লা পানি বা আবর্জনা ফেলার আগে পরিবেশ নিয়ে ভাবতে হবে সকলকে। সুন্দর পরিবেশ সুরক্ষা সকলের দায়িত্ব।’
ব্যবসায়ী সাজাউর রহমান বলেন,‘ইব্রাহীমপুর গ্রামের আনন্দ বাজার গিয়ে শহরের দিকে তাকালে দেখা যায় নদীর তীরে ময়লার একাধিক স্তুপ। এই ময়লা আবার কেউ কেউ আগুন দিয়ে পুড়ে অপসারণ করেন। ময়লা ফেললে যেমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, পুড়ে ফেলার সময়ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।’
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি একেএম আবু নাসের বলেন,‘শহরের আনাচে-কানাচে কিছু কিছু জায়গায় যেমন ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়, তেমনি নদীর তীরেও বেশ কিছু জায়গায় ময়লার স্তুপ দেখা যায়। যারা ময়লা ফেলেন, তাদের সচেতন হওয়া উচিত। কারণ এই নদীর পানিতে অনেকে গোসল করেন, সাংসারিক কাজকর্মেও ব্যবহার করেন। মানুষ নদীপথে চলাচলের সময় এই নোংরা পরিবেশ তাদেরও নজরে আসে। এই জন্য নদীর তীর রক্ষায় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।’
পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন,‘নদীর তীরের পরিবেশ সুরক্ষায় মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের পৌরসভার গাড়ি দিয়ে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে আসে। বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা আছে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অতিরিক্ত ক্লিনার আছে। এরপরও এক শ্রেণীর মানুষ নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেয়। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। আমরা বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনাকে আরো জোরদার করব।’

  • [১]