- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নদী নেই কষ্ট আছে

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার একাংশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা যাদুকাটা (এক সময়ের যাদুকাট) নদী এখন ২০ হাজার মানুষের গলার কাঁটা। সভ্যতার শুরুতেই মানুষের বসতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিল। অথচ মরা যাদুকাটা নদীর পাড় ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হচ্ছেন নদীর পাড়ের ৯ টি গ্রামের মানুষ। যারা এখনো গ্রামে আছেন, বর্ষার আগেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয় পাহাড়ী ঢলের আক্রমণ থেকে বাড়ি-ঘর রক্ষা করা যাবে কিনা এই দুশ্চিন্তায়।
বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বাগগাঁও, ঢালারপাড়, মোদাইরগাঁও, উলাসনগর, সিরাজপুর, জামালপুর, শক্তিয়ারকলা, বড়খলা ও বালিজুরি এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ী নদী যাদুকাটা। গত ২০ বছরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে বালি ও পলিমাটি পড়ে এই নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ ভরাট হয়ে গেছে। এই অংশ এখন মরা যাদুকাটা হিসাবেই পরিচিত। নদীতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানি থাকে না। বর্ষার শুরুতেই নেমে আসা পাহাড়ী ঢল পাড় উপচে নদীর পাড়ের বসতি দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ী ঢলে নদীর পাড়ের আঙ্গারুলি হাওররক্ষা বাঁধ ভেঙে আঙারুলি-সোনার হাওরে পানি প্রবেশ করে প্রায় প্রতি বছরই কৃষকের কপাল ভাঙে।
নদীরপাড়ের সিরাজপুরের কৃষক আব্দুল হাই বলেন,‘নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পাড়ের প্রায় সমান হয়ে গেছে, সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ী ঢল হলেই পাড় উপচে বাড়ি-ঘর, মসজিদ-মন্দির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। নদী খনন না হলে এই এলাকায় থাকতে পারবে না মানুষ’।
স্থানীয় সাংবাদিক সালেহ আহমদ বলেন,‘নদী ভরাট হওয়ায় বোরো মৌসুমে পুরো এলাকায় সেচের পানির সংকট দেখা দেয়। পানি সংকটে মানুষ চাষাবাদ করতে পারে না, নদীর বুকের কিছু অংশে ধান চাষসহ সবজী চাষ করেন নদীর পাড়ের মানুষ’।
স্থানীয় কৃষক সংগঠক আব্দুল গণি  বলেন,‘এই এলাকার মানুষের এক সময় গোলাভরা ধান ছিল, নদী থেকে মাছ আহরণ করতো, নদী দিয়ে বারকী নৌকায় বালি-পাথর সহ অন্যান্য মালামাল এলাকায় আসতো, এর ফলে মানুষের আর্থিক অবস্থাও ভাল ছিল, নদী ভরাট হওয়ায় ফসলি জমি আবাদ করা যাচ্ছে না, নৌ-চলাচল হচ্ছে না, মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে, অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসতি স্থাপন করছে’।
স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন,‘যাদুকাটা নদী এক সময় অনেক গভীরতা ছিল, এই নদীই ছিল এলাকার মানুষের জীবীকার মাধ্যম, ভরাট হওয়ায় এখন মানুষের জন্য বিপদ হয়েছে নদীটি। নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন হওয়া জরুরি’।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছর উদ্দিন বললেন,‘যাদুকাটা নদীর ভরাট হওয়া প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী বছরেই এই প্রকল্প অনুমোদিত হবে এবং খনন কাজও শুরু হবে’।

  • [১]