কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বাগেরকোনা ও সলফ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। দরগাপাশা ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে সড়কটি। কিন্তু বিগত ২ মাস যাবৎ প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের বাগেরকোনা গ্রামের পশ্চিমের অংশে প্রায় ৩ শত মিটার জায়গায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সড়কের ৩ শত মিটারের মতো জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, যান চলাচল বন্ধ থাকায় ডেলিভারীর রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার সড়ক পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঐ এলাকার জনসাধারণকে।
সলফ গ্রামের আব্দুল গফফার জানান, এই সড়কের ব্যাপারে আমরা কয়েকবার এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করেছি। আমাদের এলাকার হাওররত্ম পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয়কে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের নদী ভাঙ্গন অংশের সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন।
উপজেলার সলফ মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জিতু মিয়া বলেন, বাগেরকোনা ও সলফের সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘ দিন ধরে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সড়কটি বেহাল অবস্থা। দ্রুত সময়ের মাঝে সড়কটির নদী ভাঙ্গন এলাকায় সংস্কার করা অতি জরুরী, না হলে জনগণের দুর্ভোগের কোন সীমা থাকবে না।
দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন বলেন, ইতিপূর্বে এই সড়কের ব্যাপারে এলাজিইডি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পূর্ব বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নুর কালাম বলেন, এই সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটিকে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাহবুব আলম বলেন, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদী ভাঙ্গন এলাকায় কিছু বস্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ীভাবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যাপক ভাঙ্গনের বিষয়ে এলজিইডির কিছু করার নেই, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ে সড়কটি সংস্কার করতে হবে অথবা বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমদ বলেন, এই রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির যৌথ উদ্যোগে সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন। উপজেলা পরিষদ থেকে যতটুকু সহযোগিতা লাগে তা আমরা করব।