স্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দের। ভাঙাচুরা সড়কে গাড়ি চলে হেলেদুলে। এবড়োখেবড়ো সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বলছিলাম শহরতলির নবীনগর, খামতিয়র, ধারারগাঁও, গোদারগাঁও সড়কের কথা। ভাঙা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও যাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পর নবীনগর -গোদারগাঁও সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলছে এঁকেবেঁকে। বৃষ্টির দিনে গর্তে পানি জমে থাকে। আবার রোদ উঠলে অনেক জায়গায় গাড়ি চলার সময় আশপাশ ধুলাময় হয়ে যায়। শহরের নবীগর, খামতিয়র পয়েন্ট, গোদারগাঁও পয়েন্টের বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে গাড়ির চাকা পড়লেই মাত্রই ডানে বামে দোল খাচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় ভূক্তভোগীরা জানান, সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার আকিক মিয়া চালকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মাঝে মধ্যে সড়কের মাঝের গর্তগুলো সংস্কার করেন। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তা ধুয়ে যায়। এছাড়াও প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাফেরা করায় সড়কের অবস্থা শোচনীয়। প্রায়ই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ছোট-বড় অনেক যানবাহন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।
স্থানীয় আকমগীর আলম জানান, খুবই দুর্ভোগের মধ্যে আছি আমরা। জরুরী ভিত্তিতে এসব সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়ক মেরামত করে আমাদের এলাকার জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের উপযোগী করে দিবেন বলে আশা করছি।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এমন ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে ইচ্ছে হয় না। সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার করতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে কলেজে যাওয়া আসা করতে পারি।
গোদারগাঁও গ্রামের মকবুল শাহ আলী আল মাইজভান্ডারি বলেন, সড়ক চলাচলের জন্য অনুপযোগী। দ্রুত যাতে সড়কটি সংস্কার কাজ হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদুষ্টি কামনা করছি।
সিএনজি চালক হারুন ওর রশিদ বলেন, পেটের দায়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। ভাঙা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে মন চায় না, কিন্তু নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ভাঙাচুরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।
তিনি জানান, সড়কের কারণে দুই একদিন পরপর গাড়ির নানান সমস্যা দেখা দেয়। যাত্রীদেরও যাতায়াতে কষ্ট হয়, চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের।
এ বিষয়ে এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, সদর উপজেলার ধারারগাঁও, গোদারগাঁও এবং খামতিয়র এবং পৌর এলাকার নবীনগর সহ বিভিন্ন উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট দিয়েছি। নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই সড়ক সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু করব।