আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার নবীনগর এলাকায় সুরমা নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় খেয়াঘাটের সন্নিকটে তিন স্থানে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৩ বছর আগে থেকে নবীনগর এলাকায় সুরমা নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত বালু পাথর ব্যবসায়ীরা মালামাল ডাম্পিং করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু গত বছর বালু পাথর সহ নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ফসলি জমিও বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি আমাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর আলম বলেন, নবীনগর এলাকায় ২-৩ বছর আগে থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে ফসলি জমি ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হবে।
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আলী বলেন, আমাদের এলাকায় নদীর তীরে চর পড়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে অনেক ক্ষতি হবে আমাদের। এই জন্য নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি প্রয়োজন।
ধারারগাঁয়ের মনিরুজ্জামান বলেন, নদীর উত্তরপাড়ে ভাঙন অব্যাহত আছে। কয়েক বছর ধরে শহরের পাড়েও নদীর তীরে ভাঙন ধরেছে। ফসলী জমি ভাঙনের কবলে পড়ার আশংকা বিদ্যমান রয়েছে।
ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে বালু পাথরের ব্যবসা করে আসছি। গত ৩-৪ বছর ধরে হঠাৎ নদীর তীরে এই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের ডাম্পিং করা বালু পাথর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
কুরবাননগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, নবীনগর এলাকায় নদীর তীরে যেভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
কুরবাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল বরকত বলেন, নবীনগর এলাকায় সুরমা নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েক বছর ধরে। ছোট আকারের ভাঙন থেকে এখন আকার ধারণ করে একাধিক স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধ করলে ফসলী জমি বিলীন হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে। এই ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।