আকরাম উদ্দিন
শহরের নবীনগর এলাকায় ভাঙা সড়কে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি বেড়েছে। এই সড়কে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় এই ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারী সড়কে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। সড়ক মেরামতের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নবীনগরের রিনা ‘স’ মিল থেকে শুরু করে ধারারগাঁও পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুকনা মওসুমে জমে থাকা ধুলোবালি উড়ে সড়কের পাশের পরিবেশ নষ্ট হয়। বৃষ্টিতে ভাঙা গর্তে ভর্তি ধুলাবালি থেকে কাদার সৃষ্টি হয়। সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
গত বন্যায় নবীনগর এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেলেও মেরামত কাজ শুরু হয়নি এখনও। অগোছালোভাবে সড়ক মেরামত করে মানুষ চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। এখন এই সড়কে কোনো মতে গাড়ি চলাচল করে আসছে। যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন। এই সড়ক দিয়ে কুরবাননগর ইউনিয়নের এবং সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের ৩ ইউনিয়নের মানুষ খেয়া পার হয়ে প্রতিদিন শহরে আসা-যাওয়া করেন।
বেরীগাঁওয়ের রহমান মিয়া ও বেলাবরহাটীর শরীফ হোসেন বলেন, আমরা খেয়া পার হয়ে নবীনগরের সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ করি। কিন্তু সড়কটি মারাত্মক ভাঙা থাকায় মারাত্মক কষ্ট হয় আমাদের।
ধারারগাঁওয়ের আবু তাহের বলেন, গত বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর মেরামত কাজ হয়নি। এই কারণে এখনও অনেক গর্ত রয়েছে। যাতায়াতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। সড়কের মেরামত জরুরি প্রয়োজন।
নবীনগরের বাসিন্দা দুলন মিয়া বলেন, নবীনগরের ভাঙা সড়কে শুকনায় ধুলা উড়ে। বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়। সড়কের যথাযথ উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। বার বার সড়কের কাজ হয়। আবার ভেঙে যায়। সড়কের টেকসই উন্নয়ন চাই আমরা।
কুরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন, নবীনগর থেকে গোদারগাঁও পর্যন্ত গত বন্যায় সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এই সড়কে মানুষ একটি অটোরিক্সা নিয়েও শান্তিতে যেতে পারে না। চরম ঝাঁকুনিতে হাঁপিয়ে উঠতে হয় সকলকে। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে দ্রুত সড়কের মেরামত প্রয়োজন।
সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা নবীনগরের ভাঙা সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প পাঠিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে অনুমোদন হয়ে আসবে। এরপর সড়কের মেরামত কাজ শুরু হবে।