আকরাম উদ্দিন
প্রথম দফা বন্যায় শহরের নবীনগর-ধারারগাঁও এলাকায় সড়ক ভাঙনের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সড়কে যাতায়াতকারী সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের ও আশপাশ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ শহরে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রথম দফা বন্যায় সড়কের এক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়ার পর দ্বিতীয় দফা বন্যায় এই সড়কের তিন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, নবীনগর এলাকার ৩ স্থানের ভাঙন মেরামতের জন্য জরুরিভাবে প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। পানি কমলে সড়কের ভাঙন মেরামত কাজ শুরু হবে।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মানুষের জরুরি যাতায়াত সুবিধার্থে ভাঙন এলাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এই সাঁকো দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সাঁকোর পাশে রয়েছে ফেরি নৌকা। নৌকায় শিশু, মহিলা ও বয়স্ক মানুষ চলাচল করছেন। এই সড়কে ছোট আকারের আরও দুইটি ভাঙন রয়েছে। এসব ভাঙন দিয়েও মানুষ হেঁটে চলাচল করছেন। সুরমা নদীর পানির প্রবল বেগে ধোপাখালীর স্লুইসগেইটের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় দ্রুত বাঁশের মাচান বেঁধে এবং বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ধোপাখালী থেকে শুরু করে নবীনগর হয়ে ধারারগাঁওয়ের পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের ৩ স্থানে ভাঙন ছাড়াও বিভিন্ন স্থানের গার্ড ওয়ালের ভেতর সাইটের মাটি সরে গেছে। এতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অমিত বর্মন ও মমতা বেগম জানান, গত তিন বছর এই সড়ক ভাঙেনি। এবার হঠাৎ করে বেশি বন্যা হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে
ভেঙে গেছে। এতে সড়কে যাতায়াতকারী লাখো মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। শহরে জরুরি প্রয়োজনে আসা-যাওয়ার মানুষ এখন সাঁকো ও ফেরি নৌকা দিয়ে চলাচল করছেন। এভাবে চলাচল করাও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, দুই দফা বন্যায় নবীনগর-ধারারগাঁও সড়কের তিন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরিভিত্তিতে সড়কের ভাঙন মেরামত খুবই প্রয়োজন।
স্যানক্রেড হাসপাতালের ম্যানেজার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নদীর উত্তরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। এই সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। জরুরি উদ্যোগে এই সড়কের ভাঙন মেরামত প্রয়োজন।
কুরবাননগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর জরুরি প্রয়োজনে মানুষ চলাচলের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আবারও বন্যা দেখা দিলে সাঁকো ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। সড়কের ভাঙন দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।