- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নবীন চিকিৎসকদের মধ্যে সেবার মনোভাব জাগ্রত করা হোক

৩৯ তম বিসিএসে ৪৪৪৩ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সুপারিশে এই সংখ্যক চিকিৎসককে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর এদের পদায়ন করা হবে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে। সরকার বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে প্রচুর চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশেষ নিয়োগ দানের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসক সংকট এখন কিছুটা দূর হবে। দেশের গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসকদের পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বহু চিকিৎসকের পদ শূন্য। অনুমোদিত পদের অর্ধেকের চাইতেও বেশি পদে কোনো লোক নেই। এবং এই শূন্যতা একদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো শূন্য। ফলে জনগণ কাক্সিক্ষত চিকিৎসা সেবা থেকে সংগত কারণেই বঞ্চিত থাকেন। এখন এই চিকিৎসক নিয়োগের ফলে বর্ণিত সংকটাবস্থা কিছুটা হলেও কাটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে এই জায়গায় অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর নয়। এর আগে যখন চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছিল তখনও বেশ কিছু চিকিৎসককে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু পদায়নের অল্প দিন পরই এরা পছন্দমত কর্মস্থলে বদলি হয়ে গেছেন। এবারও যাতে সেই অবস্থা না হয় সেটি আমাদের কাম্য।
নবীন চিকিৎসকদের চাকুরির প্রথম দুই বছর শিক্ষানবীস কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া সরকার চিকিৎসকদের মফস্বল এলাকায় ন্যূনতম দুই বছর চাকুরি করার বাধ্যবাধকতা রেখেছেন। এছাড়া প্রজাতন্ত্রের সকল সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো স্থানে চাকুরি করতে বাধ্য বলে চাকুরি আইনে বর্ণিত আছে। এতসব বিধান থাকার পরও চিকিৎসকদের গ্রামীণ এলাকায় রাখা যায় না। স্বাস্থ্য-প্রশাসন কেন আইন মানতে পারছেন না সেটিও নানাভাবে প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের সংগঠন খুব বেশি শক্তিশালী। এই সংগঠনকে পাশ কাটিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসন দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে পারে না। কথাটির মধ্যে আংশিক বাস্তবতা থাকলেও প্রশাসনের এমন নতজানু অবস্থা কখনও কাম্য নয়। প্রশাসনকে অবশ্যই সারা দেশের সুষম সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অনুন্নত এলাকা এমনিতেই বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। অগ্রাধিকার না হোক অন্তত সমানাধিকার যাতে সকল এলাকা প্রাপ্ত হয় সেদিকে খেয়াল না রাখার অর্থ হল অকর্মন্যতা।
আমাদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দকেও এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। জেলার সবগুলো চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতে এবার পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়ন হয় এবং পদায়িত চিকিৎসকরা যাতে কোনো তদবির করে বদলি হতে না পারেন সেদিকে তাঁদের দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যদিকে নবীন চিকিৎসকরা যাতে মফস্বল এলাকায় এসে অস্বস্তিতে না ভোগেন সেজন্য তাদের যথাযথ কর্মপরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য প্রশাসন যদি সর্বক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখেন তাহলে কেউই বদলির জন্য তদবিরে উদ্যোগী হবেন না। নিরপেক্ষ অবস্থা হলো সব ধরনের চাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বোত্তম ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে।
যারা চিকিৎসক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁরা এ দেশেরই সন্তান। এই আলো হাওয়ায়ই তাঁরা বেড়ে উঠেছেন। তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশেরই নাড়ির সংযোগ কোনো না কোনো গ্রামীণ জনপদে। এই দেশকে তাঁরা ভাল করে চিনেন। ভালও বাসেন। দরকার শুধু তাঁদের ভিতর সেবার মনোভাব তৈরি করা। এই দায়িত্ব অগ্রজদের। অগ্রজ চিকিৎসক ও চিকিৎসা-প্রশাসকরা তাঁদের উপযুক্ত পথের দিশারি হোন এই আমাদের কামনা। আমরা নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অভিনন্দন জানাই।

  • [১]