- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নাছির চৌধুরী’র ৩ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করবে পুলিশ ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজনীতিকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র ৩ টি অস্ত্রের লাইসেন্সই বাতিল হতে পারে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেছেন,‘আমরা আপাতত খোয়া যাওয়া অস্ত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তবে তাঁর (নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র) ৩ টি অস্ত্রই বাতিলের জন্য জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে লিখিত দেবে পুলিশ’। এদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দিরাইয়ের রাজনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন ও আতংকিত।
প্রসঙ্গত. শনিবার রাতের কোন এক সময় সাবেক সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা তার লাইসেন্সকৃত রাইফেল ও রিভলবারসহ স্বর্ণালংকার এবং কিছু টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। কেবল তার বন্দুকটি রেখে যায় ডাকাতরা। ঐ রাতে নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়ির তত্বাবধায়ক লিলু মিয়া ছাড়া অন্য কেউ বাড়িতে ছিল না। রোববার বিকাল ৩ টায় দিরাই উপজেলা সদরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইড় পার্শ্ববর্তী শান্তিপুরে লিলু মিয়ার লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে রোববার বিকাল থেকেই পুলিশ ও সিআইডি’র অপরাধ বিশেষজ্ঞদল তদন্তে নামে। এই দুই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা রোববার এবং সোমবারও নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা সদরের বাড়িতে গিয়েছেন এবং অন্যান্য স্থানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এই ডাকাতি ও খুনের ঘটনা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে বলেন, ‘সাবেক    
সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র নিজের এই বিষয়ে অনেক অবহেলা ও অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারেন না। পুলিশ ও সিআইডি’র প্রাথমিক তদন্তে আমরা যা পেয়েছি সেটি এমন যে, যে দরজা দিয়ে তাঁর বাসায় লোক ঢুকেছে, এটি মশা আটকানোর (জালি দিয়ে তৈরি) দরজা। এই দরজার জালি কেটেই পাওয়া গেছে গ্রীলের গেইট। এই গেইট তালাবদ্ধ ছিল না। হাত দিয়ে বাহির থেকে খোলা হয়েছে। পিস্তল যে আলমারিতে ছিল সেটিও লক ছিল না। বন্দুক যে ওয়ারড্রবে ছিল সেটিও লক ছিল না। এছাড়া নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র নিজের নিরাপত্তার জন্য ৩ টি অস্ত্রের লাইসেন্স করা হলেও তিনি সুনামগঞ্জ সদরে থাকেন, অথচ একটি অস্ত্রও সাথে রাখেন না। আগ্নেয়াস্ত্র এভাবে নিরাপত্তাহীন ভাবে তিনি রাখতে পারেন না। আমরা আপাতত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টায় আছি। এরপর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য লিখবো। তাছাড়া দিরাই থানা পুলিশও এই বিষয়ে দায়িত্বহীন ছিল, একজনের বাড়িতে ৩ টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, এই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করানো তাদের উচিৎ ছিল’।
ওদিকে, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনাকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং আতংকজনক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন দিরাইয়ের রাজনীতিকরা।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন বলেন,‘এই ঘটনা উদ্বেগজনক। এই অস্ত্র দুটি উদ্ধার না হলে এগুলো ব্যবহার করে বড় ধরনের ঘটনাও ঘটাতে পারে দুর্বৃত্ত বা ডাকাতরা’।
দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া বলেন,‘আমি মেয়র হবার পর গত ১০ মাস দিরাই পৌরসভার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল ছিল। গত দুই মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আমিও উদ্বিগ্ন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন থেকে একটি মোটর সাইকেলও সম্প্রতি চুরি হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আমি মর্মাহত’।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন,‘আমরা হতবাক, আতংকগ্রস্থ। এ ঘটনায় করণীয় নির্ধারণের জন্য আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় দিরাই বিএনপি কার্যালয়ে সভা ডাকা হয়েছে’।
দিরাই উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন,‘উপজেলা পরিষদের ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় আতংকিত সকলেই’।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘এ ঘটনায় আমি মর্মাহত, উদ্বিগ্ন। আমি যেহেতু বাড়িতে ছিলাম না, আলমিরা বা ওয়ারড্রব খোলা ছিলা কী-না সেটিও আমি বলতে পারবো না। আলমিরা বা ওয়ারড্রবে কেবল রাইফেল-পিস্তল নয়, অন্য কিছুও থাকে।’ পেছনের জালির দরজা কেটে গ্রীল হাত ঢুকিয়ে খুলেছে, পুলিশের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘হতে পারে’।

  • [১]