সু.খবর ডেস্ক
কিছুদিন ধরে বেশ দৌড়ঝাঁপের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্বশীল কর্তাদের। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ। নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। সেটি একটি কারণ তো অবশ্যই। তবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে আরও তটস্থ করে রেখেছে আইন-আদালত। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মনে করেন, মামলা-মোকদ্দমার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে।
পরশু এজিএম-ইজিএম করে সংশোধনী আনা হয়েছে বিসিবির গঠনতন্ত্রে। সেটা অনুমোদন না দিতে ওই দিনই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে আইনি নোটিশ দিয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। এনএসসি বুধবার বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। অনুমোদনের খবর পেয়েই বিকেলে হঠাৎ বিসিবি কার্যালয়ে আসেন নাজমুল।
বহুদিন ধরেই দেশের ক্রিকেট আটকা পড়েছে আইন-আদালতের জটিলতায়। যেটি থেকে মুক্তি মেলেনি এখনো। এ বিষয়টি নিয়ে নাজমুল বেশ বিরক্ত। বিসিবি সভাপতি তো মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ যেভাবে খেলছে, তাতে মামলা-মোকদ্দমার প্রভাব পড়েছে, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করা ছাড়া এসবের কোনো উদ্দেশ্য নেই। এগুলোর প্রভাব কিন্তু সব জায়গায় পড়ছে। আজ যদি মামলা না থাকত, এজিএম আগেই করে ফেলতাম। নির্বাচন আগেই ঘোষণা করে ফেলতাম। আপনারা জানেন, আমি নিজে খেলা দেখতে যাই। দলের সঙ্গে সব সময়ই থাকি, তাদের উৎসাহ দিই। তাদের একটু সাহস জোগাই। এই তাড়াহুড়ো করে এজিএম ডাকার জন্য এবার আমরা কেউ যেতেও পারলাম না। এসবের একটা প্রভাব পড়ে। খুব খারাপ লাগছে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় ওরা একা খেলছে। সেখানে বোর্ডের (কর্তা) কেউ নেই। এমন কখনো হয় না। ওরা খেলছেও ভিন্ন পরিবেশে। ওদের মধ্যে একটু হয়তো ভয়ও আছে। এই সময়েও তো ওদের পাশে আমাদের থাকার দরকার ছিল। এই যেসব খবর (মামলা), মাথার মধ্যে কি ঢোকে না? খেলোয়াড়দের মধ্যেও ঢুকছে।’
অগত্যা বাংলাদেশ থেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ম্যানেজার মিনহাজুল আবেদীন ছাড়া কারও সঙ্গে নাকি তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না!
তবে নাজমুলের জন্য আপাতত স্বস্তির বিষয় সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন হয়ে গেছে। কাল পরিচালনা পরিষদের জরুরি সভায় ঠিক হবে কবে নির্বাচন হবে। তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনও গঠন হবে আজ।