আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর বর্ধিতাংশের নান্দিয়ার হাওর ও ছিরিয়ারগাঁও হাওরের আপরবাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন কৃষকরা। মাটিয়ান হাওর বর্ধিতাংশের নান্দিয়ার হাওর ও ছিড়িয়ারগাঁও হাওরে ২০১৭ সালে ফসল ডুবার পর ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ চলমান ছিল। ২০২২ সালে এ দু’টি হাওরে বাঁধের কাজ না করায় বাঁধ সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম জয়পুর, গোলাবাড়ি, ছিরিয়ারগাঁও, কামালপুর, তরং, শিবরামপুর, মনতলা, মাটিয়ান, মুজরাই, ছিলানি তাহিরপুর ও মন্দিয়াতা সহ ১৫টি গ্রামের কৃষকরা তাদের সোনার ফসল নিয়ে পড়ছেন নানামুখী দুর্বিপাকে। এ অবস্থায় কৃষকরা তাদের ধান কাটবেন না হাওর বাঁধের মেরামত কাজ করবেন এ নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নান্দিয়ার হাওর ও ছিড়িয়ারগাঁও হাওর দু’টির আপর বাঁধে গত ৫দিন ধরে কৃষকরা বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
মন্দিয়াতা গ্রামের কৃষক শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া বলেন, বর্তমানে তিনি এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে বাঁধে নিয়োজিত কিছু শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও খাবারের ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে কোন আর্থিক সহযোগিতা পাননি। তবে বুধবার ইউএনও অফিস থেকে ২৫’শ বস্তা ও ২৫টি বাঁশ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। বস্তার চাহিদা মেটাতে তারা সম্প্রতি পানিতে তলিয়ে যাওয়া বর্ধিত গুরমা হাওর থেকে কৃষকরা ডুবুরি দিয়ে বস্তা সংগ্রহ করে বাঁধে এনে কাজ করছেন।
ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মো. হাদিউজ্জান বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটিয়ান হাওর বর্ধিতাংশের নান্দিয়ার হাওর ও ছিরিয়ারগাঁও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ চলমান ছিল। ২০২২ সালে এ দুটি হাওরে কি কারণে পাউবো কাজ করেনি তা তাহার জানা নেই। তিনি এ দু’টি হাওরকে আগামীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেয়ার জন্য দাবি জানান।
ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সাহাজ উদ্দিন বলেন, ছিরিয়ারগাঁও হাওরের কামালপুর ক্লোজার বাঁধটি বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবে গেছে। এ অবস্থায় এলাকার কৃষকরা আপর বাঁধে কাজ করবে না ক্লোজার বাঁধে কাজ করবে এ নিয়ে আমরা দিশেহারা।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, নান্দিয়ার হাওর ও ছিড়িয়ারগাঁও হাওরের অবস্থা খারাপ। চুয়ে চুয়ে আপর দিয়ে পানি গড়াচ্ছে। হাওরপাড়ের কৃষকরা ফসল রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বাঁধ রক্ষায় তিনি প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বস্তা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।