- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘নামেই সরকারি’ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

এনামুল হক, ধর্মপাশা
২ বছর আগে একটি কলেজ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে। সে অনুযায়ী দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সরকারি বিধি মোতাবেক দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হচ্ছে বেসরকারি নিয়মে। কবে সরকারি বেতন-ভাতা মিলবে তাও অজানা শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে। তাই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা সরকারি কলেজ ও বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যারয়ের ৬৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ অবস্থায় কেউ কেউ ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘নামেই সরকারি’ বলে উপহাসও করছেন।
উপজেলা সদরে অবস্থিত ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজকে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট এবং উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারিকরণ করা হয়। তখন থেকেই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধি মোতাবেক চলছে। ধর্মপাশা সরকারি কলেজে বতর্মানে অধ্যক্ষসহ ২৩জন শিক্ষক, ২জন ডেমুনেস্টেটর, ২জন লাইব্রেরিয়ান, ১জন শরীচর্চা শিক্ষক, ৩জন অফিস সহায়ক, ১জন হিসাবরক্ষক ও ৯জন পিয়ন কর্মরত আছে। অপরদিকে বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক ছাড়া এ বিদ্যালয়ে ১৮জন শিক্ষক, ১জন অফিস সহকারী ও ৩জন অফিস সহায়ক রয়েছে। সরকারিকরণের পরেও ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিও মোতাবেক বেতন-ভাতা ভোগ করতে হচ্ছে কোনো রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা ছাড়া।
ধর্মপাশা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজ আমাদের কলেজের সাথে জাতীয়করণ হয়েছে। কিন্তু ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা (বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, অবসর ভাতা) ভোগ করছেন। অথচ আমাদের কেউ অবসর নিলে কিংবা মৃত্যবরণ করলেও সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।’
বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন নিলেও সরকারিকরণের পরে সরকারি বিধি মোতাবেক ১০ থেকে ১৫ টাকা করে জনপ্রতি বেতন নেওয়া হয়। ফলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় কমেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র এমপিওভূক্তির বেতন দিয়ে আমাদেরকে চলতে হচ্ছে।’
ধর্মপাশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম বলেন, ‘সরকারিকরণের পর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্র পর্যায়ক্রমে জমা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রীতার কারণে এর কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

  • [১]