স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ২৫ বছরকে সামনে রেখে বেইজিং ঘোষণার পর্যালোচনা ও নাগরিক সমাজের সম্পৃক্তি শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরীফা আশ্রাফী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালে চীনের বেইজিং শহরে জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের আহবান ছিল নারীর চোখে বিশ্ব দেখার। এই সম্মেলনে নারী-পুুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষে যে ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। বেইজিং কর্মপরিকল্পনায় নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা মনে করে ১২টি উদ্বিগ্নতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত ২৫ বছরে এসব বিষয় কতটুকু পরিবর্তন এসেছে সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। ওই সম্মেলনের ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার আলোকেই ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে প্রণীত হয় কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু গৃহিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনের মহিলা পরিষদের নেতারা বলেন, নারী-পুরুষের সমতা, নারীর মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে মহিলা পরিষদ দেশে ৪৮ বছর ধরে কাজ করছে। নারীর জন্য নিরাপদ ও সমতাপূর্ণ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীকে পেছনে রেখে একটি জাতি তার কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। নারী-পুরুষের মিলিত চেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের জেলা শাখার সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, সহ সভাপতি রনজিতা রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালী চৌধুরী ও মল্লিকা দাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী সরকার, প্রচার ও প্রকাশণা সম্পাদক মিনা পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।