- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নিজেরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি- বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন ভদ্র

স্টাফ রিপোর্টার
আমাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মীর শওকত। সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন। তাদের নেতৃত্বে আমরা ছাতক ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে মুক্ত করলাম। আমাদের ডিফেন্স ছিলো তিন দিক ঘেরাওয়ের কৌশল। কেপ্টেন হেলাল সাবের প্লেন ছিলো এটা। দুইদিকে গেরিলা এটাক। সুনামগঞ্জ ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হওয়ার পরে মনের টানে চলে আসছিলাম ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ। যে আমাদের দেশের জন্যে এতো যুদ্ধ করলাম, জঙ্গলে রইলাম, এখন নিজের জেলা স্বাধীন হয়েছে। আমাদের মাঝে সাংঘাতিক ধরণের একটা অনুভূতি কাজ করছিলো তখন।
কথাগুলো ইকো ওয়ান ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রথম ব্যাচে ট্রেনিং নিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটির সেলা সাব সেক্টরে পোস্টিং হয়, সেই দলের প্রথম সামরিক অপারেশনের প্রথম কমান্ডার সাধন ভদ্র বলছিলেন। তিনি যুদ্ধকালীন পুরো ৯ মাস শত্রুদের মোকাবেলা করেছেন। অনেক সম্মুখ যুদ্ধে অংগ্রহণ করেছেন। সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসে তাঁর অনুভূতির কথা জানান এই প্রতিবেদকের কাছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন ভদ্র বললেন, কোন দিক দিয়ে সুনামগঞ্জ আসা যায় সে চিন্তা করতে লাগলাম। ক্যাপ্টেন হেলাল সাবরে বললাম, স্যার নিজের মাতৃভূমি দেখে আসি? উনি বললেন, পারবায় যাইতায়? বললাম, পারমু। তখন আমরা রওয়ানা দিলাম ছাতক থেকে সুনামগঞ্জের দিকে। তারপর সুনামগঞ্জে আসলাম। এসে পুরাতন মানুষদের সঙ্গে দেখা হলো।
সে সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, প্রথম দেখা হলো আতম সালেহ এর সাথে। এরপর এনামুল হক চৌধুরী। পরে সুনামগঞ্জের চতুর্দিকে হেঁটে দেখলাম। নিজেরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি। প্রথম সে স্বাধীন জেলা সুনামগঞ্জে হাঁটছি। সে এক অন্য রকম অনুভূতি।
সুনামগঞ্জ স্বাধীন হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তখনও সুনামগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেন নি। সদ্য স্বাধীন জেলায় নিরাপত্তাজনিত কারণেই নেতৃবৃন্দের শহরে আসতে বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘৬ ডিসেম্বরে পুরাতন রাজনীতিবিদরা তখনও আসেন নাই। কারণ ঝুঁকি ছিলো। মাইন পুঁতা ছিলো অনেক জায়গায়। সেজন্যে তাদের সিকিউরিটি নিয়ে শঙ্কা। তাই তারা পরে এসেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কমরেড বরুণ রায়, আলফাত উদ্দিন মোক্তার সাব, হোসেন বখত সাব। তাদের শহরে আসাটা রিক্স ছিলো কারণ উনারা মুক্তিযুদ্ধের দায়িত্বে ছিলেন। তারা বালাট, বড়ছড়ার দায়িত্বে ছিলেন। পরে ক্যাপ্টেন মোতালিব সাব আসলেন। তিনি এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেন। শহীদ মিনার তৈরি করলেন। পরে ধীরে ধীরে সবকিছু একটা ফর্মে আসে।’
যুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার বাসায় পাঞ্জাবির ক্যাম্প ছিলো। আমার বামদিকের বাসা ছিলো মাহমুদ আলী সাবের। তিনি পিডিপি করতেন। মিনিস্টার বাড়ি বলে চিনতো সবাই। নিজের বাসা দেখিয়ে তিনি বলেন, এটা ছিলো পাঞ্জাবিদের ক্যাম্প। তারা ক্যাম্প বানিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস এখানে থেকেছে। অনেক সংগ্রাম, ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

  • [১]