বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে জামালগঞ্জের নিত্যপণ্যের বাজার। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে কোন না কোন পণ্যের দাম। চাল-চুলো থেকে শুরু করে তেল-ডাল, মাছ-মুরগী ও কাঁচা বাজার সবখানে গিয়ে মূল্য বৃদ্ধির খপ্পরে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরদাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার চড়া থাকার কারণে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার আগেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ভোক্তার পকেট। এ নিয়ে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষসহ বেশি বেকায়দায় পড়েছে নি¤œ মধ্যবিত্তরা। এছাড়া নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধিতে উচ্চবিত্তদের কণ্ঠেও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠছে। ভাটির বন্দরখ্যাত সাচনা বাজারে সদাই করতে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সাথে কথা বলে বাজার অস্থিতিশীলতার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।
গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, সয়াবিন তেল লিটারে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, সরিষার তেল ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, মসুর ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বুটের ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, চিনি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লবণ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আটা প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩৫ টাকা, ডিম হালিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের প্রায় প্রতিটিতেই ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে আরও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কেরোসিন ৬৫ টাকা থেকে ৮০ ও সিলিন্ডার গ্যাস ১২০০ টাকা ১৩২০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, সবজির মৌসুমে এসেও সবজি বাজার অনেকটা লাগামহীন। কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এই মূল্য বৃদ্ধিতে হাঁফিয়ে উঠছে সাধারণ মানুষ।
সাচনা বাজারের মোহাম্মদ আলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও কাঁচামাল আড়ৎদার মো. আলমগীর জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন মালের দাম বাড়ছে। বাজারের যে অবস্থা আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষদের মারাত্বক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
বাজারে সদাই করতে আসা ভীমখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, এক তেল কিনাত গেলেই সব টেকা শেষ। এরপরে ডাইল, চিনি, আলু, পিঁয়াজের দাম তো আছেই। সবজি বাজারে গিয়া দু’এক পদ কিনলেই একশ টেকা দিয়া আওয়ন লাগে। একটা মানুষের দৈনিক রুজিই আছে সর্বোচ্চ তিনশ’ টেকা। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম এই টেকা দিয়া একটা কিনলে আরেকটা কিনন যায় না। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ এক্কেবারে অসহায়।
কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বিদ্যুৎ জ্যোতি চক্রবর্ত্তী বলেন, আমি একজন সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী শিক্ষক। আমার পেনশন ভাতা তো বাড়েনি। যারা দিন আনে দিন খায় তারা নিরুপায়। বাজারে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সদাই করার আগেই পকেটের টাকা ফুরিয়ে যায়। শাকসবজি থেকে শুরু করে মুদিমাল সবকিছুতেই বাড়তি দাম। কেরোসিন-ডিজেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। এতে কৃষক মারাত্বক সমস্যার সম্মুখীন হবে। সবক্ষেত্রেই যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে সাধারণ মানুষ চলবে কীভাবে?