- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নিম্নমানের উপকরণে হচ্ছে বীর নিবাস

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মুদাহরপুর গ্রামে দুই অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ও বালুর ব্যবহার এবং নির্মাণ কাজে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগী দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করা হলে ইউএনও মঙ্গলবার দুপুরে দুটি গৃহ নির্মাণ কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে সত্যতাও পেয়েছেন। কিন্তু ইউএনও সেখান থেকে চলে আসলে আবারও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে একটি গৃহে নির্মাণ কাজের চেষ্টা চালায় শ্রমিকেরা। এদিকে ঘটনাস্থলে চুন্নু নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ভাই ও ব্যবসায়ীক অংশীদার দাবি করে কাজের দেখাশোনা করছেন বলে জানালেও ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন জানিয়েছেন তিনি চুন্নুকে চিনেন না। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন তার (সুজন) কাছ থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে কাজটি নিজে (চেয়ারম্যান) করবেন বলে চেয়ে নেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ৯টি বীর নিবাস নির্মাণের জন্য গেল বছরের ২২ ডিসেম্বর সিলেট অঞ্চলের ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা। ওই দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ধর্মপাশার মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বীর নিবাস নির্মাণের কাজ পায়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরুর জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে ২০ জানুয়ারি ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মির্জপুর গ্রামে বীর নিবাস নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউএনও। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবক’টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এদিকে ১৫/২০দিন আগে মুদাহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত গোলাম ওমর ফারুকের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনার নামে বরাদ্দকৃত বীর নিবাস নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নাছিমা বেগমের গৃহ নির্মাণ কাজ চালু থাকলেও মোছা. আমিনার গৃহ নির্মাণ কাজ শুরু করেই আবার থেমে যায়। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে নিম্নমানের ইট দিয়ে শ্রমিকরা মোছা. আমিনার গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করলে মোছা. আমিনা এতে বাধা দেন এবং তিনি ইউএনওর কাছে ছুটে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। অপরদিকে নাছিমা বেগমের ছেলে মো. হাবিব ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন তাদের গৃহ নির্মাণ কাজেও নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি নির্মাণে ত্রুটি রেখেই কাজ করে যাচ্ছে শ্রমিকেরা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ইউএনও নির্মাণাধীন দুটি বীর নিবাস সরেজিমন পরিদর্শন করে নিম্নমানের ইট, বালু ও নির্মাণ কাজে ত্রুটির সত্যতা পান। এ সময় চুন্নু নামের এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত থেকে নিজেকে ঠিকাদারের নিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরবতীর্ দিন থেকে গুণগত মানসম্পন্ন উপকরণ ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করার প্রতিশ্রম্নতি দেন।
কিন্তু মেসার্স জব্বার বিল্ডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হক সুজন বলেন, ‘চুন্নুকে আমি চিনিনা বা তাকে আমি কাজে নিযুক্ত করিনি। ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে কাজটি চেয়ে নিয়েছে। এর জন্য আমাকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন কার মাধ্যমে কাজটি করাচ্ছে সেটি আমি জানিনা।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনই করছেন। ঠিকাদার যদি তাদের (কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি) না চিনেন তাহলে উনি কালো তালিকায় যাবেন।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, ‘অফিসিয়াল সিস্টেমে সমঝোতার মাধ্যমে কাজটি নিয়েছি। কাজটি আরেকজন ঠিকাদার বাস্তবায়ন করছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে বীর নিবাস নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে। কাজের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে (চুন্নু) কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে দুইবার শোকজ করা হয়েছে।’

  • [১]