স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার এলাকার মিষ্টিজাত দ্রব্যের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মোহনলাল সুইটস’র সত্ত্বাধিকারী লিটন চৌধুরী ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন। এসময় ব্যবসার নিরাপদ পরিবেশ ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আব্দুল হাই মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্পদের লোভে থেকে তার সৎ বাবা তার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের জন্য কৌশল সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হামলা ও লুটপাট চালান। এরপর বিচার চেয়ে আদালতের
দ্বারস্থ হন লিটন। আইনিভাবে তার পক্ষেই রায় দেন বিজ্ঞ বিচারক। এর পরেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের হামলার আশংকা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পিতা মৃত. আশুতোষ দেব, মাতা মৃত শেলি চৌধুরী। ২০০৬ সালে আমার বাবা মৃত্যুবরণ করলে উত্তরাধিকারী হিসাবে আমরা দুই ভাই আমাদের পিতার স্থাবর/অস্থাবর সমুদয় সহায় সম্পত্তির মালিক হই। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ২৪ লক্ষ টাকা এবং আমাদের পিতা পুলিশে চাকুরী করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় তার উত্তরাধিকারী হিসাবে আমরা দুই ভাই আমাদের পিতার পেনশনের ১২ লক্ষ টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে আমাদের মা শেলী চৌধুরীর নামে আমি ও আমার ভাই টিটন চৌধুরী মোহনলাল সুইটস্ এন্ড ফুড্স’র ব্যবসা শুরু করি।
তিনি বলেন, আমার মা ও মামা প্রায় ২৫ বৎসর পূর্ব হতে মালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস ব্যবসাসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এসময় হোন্ডি, আদম ও মাদক ব্যবসায়ী জনৈক মান্নান চৌধুরীর সাথে আমার মায়ের সাথে পরিচয় হয়। আমার মাকে বিভিন্ন ভাবে প্ররোচিত করে বাবার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন তিনি। মান্নান চৌধুরীর ঔরষে ও আমার মায়ের গর্ভে আমার ছোট বোন এলি চৌধুরীর জন্ম হয়।
২০১৮ সালে আমার বোন এলি চৌধুরীকে নিয়ে আমার মা শেলী চৌধুরী নিজেদের গাড়ীতে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। রাজশাহী থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে এসে গাড়ীটি এক্সিডেন্ট করে। স্পটেই আমার মা শেলী চৌধুরী মারা যান। ছোট বোন এলি চৌধুরীকে ঢাকা নেওয়ার পথে সেও মারা যায়। গাড়ী চালক ছিল মান্নান চৌধুরীর ১ম স্ত্রীর সন্তান সেতু চৌধুরী। আমার মা ও বোনের মৃত্যু ছিল সুপরিকল্পিত।
পরিবারের মর্যাদা বিবেচনায় বিষয়টি সুনামগঞ্জের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও মান্নান চৌধুরী তাতে কর্ণপাত না করে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমাকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। গত ২৩ এপ্রিল তারিখে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাকে ও আমার কর্মচারিদের বের করে দিলে যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালত, সুনামগঞ্জে স্বত্ব মোং ৫৪/১৯ইং দায়ের করি। গত ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সময় কতিপয় সন্ত্রাসীবাহিনী দ্বারা অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার মালিকানাধীন মোহনলাল সুইটস্ এন্ড ফুড্স প্রোডাক্ট নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিতে হামলা করে আমার দোকানে থাকা মালামাল লুটপাট ও ক্যাশে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মন্নান চৌধুরীর জামাতা পাভেল ছিনিয়ে নেয়। এদিকে পাভেল প্রচার করছে ব্যবসা করতে হলে প্রতি মাসে তাকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসার নিরাপদ পরিবেশ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সকলের সহযোগিতা চান লিটন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে মান্নান চৌধুরী’র জামাতা মাসহাদুল হাসান চৌধুরী পাভেল বলেন, সম্পদ আমার শ^শুরের। এই সম্পদ নিয়ে সামাজিক সালিস হয়েছে। সালিসে লিটন চৌধুরী নিজেই বলেছেন, মোহন লালের সামনের অংশটি আমার শ^শুর মান্নান চৌধুরী’র। সালিসে এই নিয়ে চুত্তিপত্র হয়েছে। আমি কোনো বল প্রয়োগের চেষ্টা করি নি। এই ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নয়। সংবাদ সম্মেলনে লিটন চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন, তাও দু:খজনক। কারণ পুলিশ রিপোর্টে এই ঘটনা দুর্ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ী চালানোয় যিনি ছিলেন, তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। আমার জানামতে আমার শ^শুর আইন মান্যকারী মানুষ। তিনি আইনের মাধ্যমেই ন্যায় বিচার চান।