- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নিরাপদ কর্মপরিবেশ দৃশ্যমান করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ইউনাইটেড স্টেটস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসএফআইএ) সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের পোশাক খাতের কমপ্লায়েন্স নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। ফ্যাশন পণ্যের মার্কিন ক্রেতা প্রতিনিধিদের ওপর চালানো জরিপের ভিত্তিতে ‘২০১৭ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বেঞ্চমার্ক স্টাডি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের রেটিং এক তারকা, যার অর্থ হলো সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। জরিপের অধীন আর কোনো দেশের পোশাক খাত এ সূচকে এক তারকা পায়নি। কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের ওপরে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও কম্বোডিয়ার রেটিং দুই তারকা। একই সূচকে শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও চীনের রেটিং তিন তারকা। জরিপে উঠে আসা এ তথ্য নিঃসন্দেহে দেশের পোশাক শিল্পের জন্য হতাশাজনক। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকান্ড ও পরবর্তীতে রানা প্লাজা ধসের পর ২০১৩ সালে শুরু হয় দেশের পোশাক খাতের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনা মানোন্নয়নের কাজ। এ কার্যক্রমের আওতায় গত সাড়ে তিন বছরে কারখানাগুলোর অনেক ত্রুটি সংশোধনও হয়েছে। তার পরও কমপ্লায়েন্স বিবেচনায় বাংলাদেশের পোশাক খাত সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকার খবরে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। তাহলে কি কোনো অগ্রগতিই হয়নি?
গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমপরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক খেসারত দিতে হচ্ছে কিছুদিন পর পরই। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের প্রতি বিদেশী ক্রেতাদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বললে ভুল বলা হবে না। বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে এ আস্থার সংকট ক্রমেই বাড়ছে যেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এখানকার শ্রমনিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখে হতাশ হয়েছেন। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন মহল থেকে গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। এত কিছুর পরও কমপ্লায়েন্স ইস্যুকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না অনেক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত করা অগ্রাধিকার সুবিধা (জিএসপি) এখনো উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিদ্যমান সুবিধা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। কারখানা ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা রক্ষার কাজটি সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না। অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে যারা যথাযথ কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে দূরে থাকেন, সেই মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পর পর কয়েকটি দুর্ঘটনায় এ খাতের অবস্থা এখন অনেকটাই নাজুক। এ অবস্থায় এ রকম দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকলে এ খাত আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কয়েকটি কারখানার দুর্বলতা ও ত্রুটির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার দায়ভার সমগ্র গার্মেন্ট শিল্পকে বহন করতে হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
দেশের কারখানাগুলোর সবই যে সার্বিক বিবেচনায় যথাযথ মানের হয়ে উঠেছে, সে দাবি করার সময় এখনো আসেনি। তবে অনেক কারখানাই পরিবেশগত উন্নতি করেছে। সংকটের আরো কারণ হচ্ছে বিশ্ববাজারে পোশাকের দরপতন। প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজ পেয়ে লাভের মুখ দেখা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। টাকার বিপরীতে ডলারের অবমূল্যায়নও পোশাক খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এ কারণে রফতানি শ্রবৃদ্ধিও কমে এসেছে। শ্রমিক অসন্তোষও পোশাক খাতের একটি সমস্যা। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে এতসব সমস্যার পরও গত চার বছরে দেশে বিশ্বমানের অনেক কারখানা হয়েছে। দেশের পোশাক খাতকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। এ খাতে বিরাজমান ও বর্ধমান সংকটগুলো নিরসনে সমন্ব্বিত উদ্যোগ অবশ্যক। কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যেগুলো নিরসনে সরকারের সহযোগিতা দরকার। কিছু সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা জরুরি।

  • [১]