- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘নির্বাচনে টেকা বাতাসে উড়ায় তারা’

বিশেষ প্রতিনিধি
‘নির্বাচন আইলেই আইন, দলের শৃঙ্খলাও মানইন না তারা, নিজেরাই ভোটাররারে গিয়া কইন আঙ্গুর মিয়া যে দাঁড়াইছইন টেকা (টাকা) আছেনি তাইনের, টেকা বাতাসে উড়ায় তারা, তবে সব মানুষরে বিশেষ কইরা আওয়ামী লীগের ত্যাগীদের কব্জায় নিতে পারে না, টেকা দিয়া ভোট কেনার চেষ্টা করে এরা’।
জগন্নাথপুরের পাটলী ইউনিয়নের সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আঙ্গুর মিয়ার মন্তব্য এটি। স্থানীয় থেকে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এই উপজেলায় প্রবাসীরা জয় পরাজয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসীরা বিশেষ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা হয় দলের, না হয় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারও ৩৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জনই লন্ডনি। এর আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়নে লন্ডনি প্রার্থী জয়ী হন।
উপজেলার পাটলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী সিরাজুল হক এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বললেন, কোন মানুষ কি করবেন, এটি নির্ধারণ করার মালিক আল্লাহ্তালা। কিছুদিনের জন্য দুনিয়াতে আসা, পরবর্তীতে যাতে কর্মের ফল পাওয়া যায় সেই লোভও আছে, ভালো কাজ করে যেতে চাই, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যাতে উপকৃত হয়, সেই চিন্তা থেকেই ভোটে আবার প্রার্থী হয়েছি, আমি টাকার বস্তার হিসাব দেই না কাউকে, টাকার জোরও দেখাই না, ইউনিয়নজুড়ে আমার প্রচেষ্টায় স্ট্রীটলাইট জ¦লছে, আমি নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য জন্য প্রবাসীদের সহযোগিতায় ওমেন্স কলেজ করেছি, ইউনিয়নের সকল ভিক্ষুক পুনর্বাসন করেছি, মানুষের সেবা করার জন্যই প্রবাস থেকে এসেছি।’
জগন্নাথপুরের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতি মেয়াদেই লন্ডনি প্রার্থীরা ভোট উৎসব জমিয়ে তুলেন, যারা প্রবাসী প্রার্থী নন তারা প্রবাসী স্বজনদের সহযোগিতা পান।
এবার এই ইউনিয়নের ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন লন্ডন প্রবাসী। এরা হলেন, কলকলিয়া ইউনিয়নে রফিক আহমদ, পাটলী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, আব্দুল হাই আজাদ ও আতিকুর রহমান আতিক। চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নে আরশ মিয়া। রানীগঞ্জ ইউনিয়নে এম, সিরাজুল ইসলাম আশিক ও ছালিক মিয়া। সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নে এক প্রার্থী ছাড়া সকলেই লন্ডনি। এরা হলেন আবুল হাসান, মুকিতুর রহমানী, মকসুদ কোরেশী, আজহার কামালী ও তানভীর আহমদ কামালী। আশারকান্দি ইউনিয়নে আব্দুস সাত্তার ও প্রবাসী শেখ জমিরুল হক। পাইলগাঁও ইউনিয়নে মখলিছ মিয়া ও ফারুক মিয়া।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বললেন, নির্বাচন আসলেই, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬০-৭০ লাখ টাকা খরচ করেন একেক লন্ডনি প্রার্থী। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের ত্যাগী অনেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ টাকা পয়সা খরচ করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের নৌকা থেকে সরাচ্ছেন। নৌকা থেকে ভোটারদের সরানোয় দলের ক্ষতি হচ্ছে, ভোটাররা যারা দল থেকে সরেন, তারা অনেকেই আর ফিরেন না।
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরের ৭ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট আগামী ২৬ ডিসেম্বর। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন

  • [১]