- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের মূলে থাকবে মানুষের কল্যাণ

আপাতত নির্বাচনী মৌসুম শেষ হলো। অষ্টম ধাপের ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই মহাযজ্ঞ শেষ হয়েছে। নির্বাচনী মৌসুম জুড়ে সহিংসতা বিষয়ক আলোচনার বাইরে অন্য যে প্রসঙ্গটি ছিল সবচাইতে আলোড়ন তৈরিকারী তা হলো এই ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ব্যাপক হারে ধরাশায়ী হওয়া। সহিংসতার বাড়াবাড়ি আমাদের শান্তিপ্রিয় জেলায় না ঘটলেও সরকার দলীয় প্রার্থীদের নিতান্ত লজ্জাজনক পরাজয় ছিল যথারীতি চমক দেয়ার যাবতীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির। সর্বশেষ তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে একজন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরও জিতে না আসতে পারা যেন সেই পরাজয়ের শেষ প্রতীকী উপস্থাপনা। তবে সার্থকতা এই কোথাও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হয়েছে একেবারে উদাহরণ দেয়ার মত অবাধ, অংশগ্রহণমূলক, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আর অল্প ক’দিন। মেয়াদের শেষ সময়ে এমন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার মাধ্যমে তাঁদের বিদায়ের ক্ষণটি বর্ণিল হয়ে উঠবে নিশ্চয়ই। এমন বর্ণিল পরিবেশেই নতুন আরেকটি নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। হয়ত এ মাসেই আমরা নতুন নির্বাচন কমিশনের অবয়ব স্পষ্ট রূপে দেখতে পাব। স্বাধীনার পঞ্চাশ বছর পর সংবিধানে প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য আইন প্রণীত হল এবং নতুন আইনের আতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন। এতদিন বিরোধী দলের অন্যতম একটি দাবি ছিল নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সংবিধানে বর্ণিত আইন প্রণয়নের। কিন্তু এই আইন যখন অনুমোদন হল তখন প্রধান বিরোধী দলের মুখে উল্টো কথা শোনা যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক বাহাস সামনের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন আঙ্গিকে চলমান থাকবে বলেই অনুমিত হয়। রাজনৈতিক গতিশীলতার অন্যতম নির্ণায়ক হচ্ছে এমন কথাবার্তা চালু থাকা। এসব কথা-বার্তার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন সজীব থাকে। তবে দেশবাসী সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনের স্মৃতিটুকো মনে গেঁথে রেখেছেন এবং এমন পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ একটি জাতীয় নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষমাণ রয়েছেন।
রাজনীতি, নির্বাচন ইত্যাদি শেষ অর্থে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই পরিচালিত হয়। যান্ত্রিকভাবে কোন কিছু অনুসরণের মাঝে যেমন সৃজনশীলতা থাকে না তেমনি এই যান্ত্রিকতার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের বিকাশের ধারা বাধাগ্রস্ত করারও কোন অর্থ হয় না। মূলত নিয়ম তৈরি করা হয় আবার তা পাল্টানো হয় মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই। বলাবাহুল্য দেশে নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতির মূল ¯্রােতগুলো এখনও তেমন করে গণমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। বরং যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় আরোহনের একটা পন্থা হিসাবে নির্বাচনকে বিবেচনা করার সর্বনাশা চিন্তা-চেতনা ক্রিয়াশীল বলে আমরা দেখতে পাই। ¯্রফে ক্ষমতা পরিবর্তন নয় বরং মানুষের জন্য আরও অনেক কল্যাণধর্মী পরিবর্তন সূচনার উপলক্ষ রূপেই নির্বাচনকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তদপেক্ষা ভাল কিছুর যদি সম্ভাবনা কেউ দেখাতে না পারে তাহলে নিছক ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণ জনগোষ্ঠীর কী লাভ সেই প্রশ্ন উঠাটাও স্বাভাবিক। এখন বুঝতে হবে গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন না মানুষের জন্য নির্বাচন। সবকিছুর মূলে যদি মানুষের অবস্থান হয়ে থাকে তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি-আদর্শ হতে হবে মানুষের স্বার্থানুকূল। নির্বাচনকেন্দ্রীক কয়টি দলের এখন এমন অবস্থা আছে?
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অজানা আশংকায় মানুষের মন কেঁপে উঠে। নির্বাচন যদি উৎসবমুখরই হয় তাহলে এই আশঙ্কা কেন? কেন মানুষ মনে করে নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে? ঠিক এই জায়গায় মানুষের মনে সস্তি তৈরি করা নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হবে। পুরাতন কমিশন কর্মমেয়াদের শেষে যে ধরনের ভাল নির্বাচন উপহার দিলেন নতুন কমিশন নিশ্চয়ই তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি গণমুখী জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে তৎপর থাকবেন।

  • [১]