শহীদ নূর আহমেদ
নির্মাণাধীন সময়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সীমানা প্রাচীরে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনুন্নত কাঁচামাল ব্যবহার ও বাস্তবায়ন কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতিতে অল্পদিনে সীমানা প্রাচীরে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে দাবী শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের। অপরদিকে দেয়ালের পাশে বালি রাখায় তার চাপে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানালেন কাজ তদারকীতে থাকা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা প্রকোৗশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বছরদেড়ক পূর্বে শুরু হয় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের চর্তুদিকের সীমানা প্রাচীরের কাজ। ১৫ লক্ষ টাকার উপরে বরাদ্দকৃত কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায় মেসার্স নাজমা ইঞ্জিনিয়ারিং নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে
সীমানা প্রাচীরের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কলেজের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের দেয়ালের কয়েকটি স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রাচীরের বেইজ দুর্বল হওয়ায় হেলে আছে উত্তর দিকে দেয়ালটি। নির্মাণ কাজের এমন অবস্থায় দেয়ালটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
এদিকে নির্মাণ মেয়াদ শেষ হলেও সম্পন্ন হয়নি সীমানা প্রাচীরের কাজ। বাকি রয়েছে একপাশের সম্পূর্ণ কাজ।
দেয়ালে ফাটল দেখায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
দূর্জয় দত্ত , মাছুম, ইমন, উৎপল সহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের উন্নয়ন কাজের বেশিরভাগ কাজে দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কাজ তদারকী না হওয়ায় কাজের এমন অবস্থা। না হলে কাজের কিছু দিনের মধ্যে দেয়ালে ফাটল ধরবে কেন ?
অপরদিকে কলেজের উন্নয়ন কাজে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয় না। উন্নয়ন কাজে কত বরাদ্দ, কে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প মেয়াদ কাল কত দিন, এমন তথ্য জানানো হয় না বলে জানালেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সত্তার বলেন, কলেজ উন্নয়নে আমাদের সম্পৃক্ত করা হয় না। আমাদের শুধু কাজের জানান দেয়া হয়। এ কারণে উন্নয়ন কাজের সার্বিক খবর জানা আমাদেও পক্ষে সম্ভব হয় না। এ কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খেয়ালখুশি মত কাজ করে থাকেন।
সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক শিক্ষা প্রকৌশলী নজরুল হাকিম বলেন, নির্মিত দেয়ালের পাশে বালির স্তুপ রাখায় বালির চাপে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেরামত করে দেবে।
অসম্পন্ন কাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা ধাপে ধাপে আসে তাই এক সাথে করা সম্ভব হয় না। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে আমরা আশা করছি।