স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে প্রায়ই নৌ দূর্ঘটনা ঘটছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে তাহিরপুর, ছাতক ও ধর্মপাশা উপজেলায় নৌকা ডুবে প্রায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন তাহিরপুর উপজেলার। এছাড়াও ৫ আগস্ট নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১ টি হাওরে নৌকা ডুবে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এলাকাবাসি মনে করেন, নৌ যোগাযোগে অব্যবস্থাপনার কারণে ঘণঘণ নৌকা ডুবে প্রাণহানী ঘটছে।
জানা যায়, জেলার ১১ টি উপজেলাই হাওর অধ্যুসিত। ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে উপজেলায় চলাচলের জন্য উন্নত সড়কপথ নেই। যেগুলো রয়েছে, সেগুলোতেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক ৬ মাস চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা। এসব সড়কে বর্ষার ৬ মাস চলাচল করা যায় না। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে হাট- বাজার, ইউনিয়ন ও উপজেলায় নৌপথে চলাচল করেন।
হাওরবাসী মনে করেন, সড়কপথে পরিবহন চলাচল করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি থাকলেও নৌপথে সেসবের বালাই নেই। একারণে ট্রলার বা নৌকা চালকরা নিজের ইচ্ছামত অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে চলাচল করেন। একারণেও নৌ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। নৌপথে এরকম দুর্ঘটনারোধ করতে ট্রলার বা নৌকার ফিটনেস যাচাই, যাত্রী ধারণ ক্ষমতা, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট নিশ্চত করে দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নৌঘাট থেকে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষার জন্য নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করা জরুরী। না হয় নৌপথে প্রাণহানীর ঘটনারোধ করা সম্ভব নয়।
তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবর আলী বলেন, আমার হাওর এলাকার মানুষ। হাওরের বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করেই বড় হয়েছি। নৌকা ডুবালেই প্রকৃতির উপর দোষ চাপাই। প্রকৃতির উপর দোষ না চাপিয়ে নৌ দুর্ঘটনা বন্ধ করতে চাইলে, প্রকৃতির অনুকূলে পরিকল্পনা করতে হবে।
ধর্মপাশা উপজেলার ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ বলেন, সড়ক পথের মত নৌপথেও নিয়ম-নীতির প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এসকল নিয়ম- নীতি প্রণয়ন করবেন। যেসকল নৌকা চালক এসব মানবেন না তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা জরুরি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, যাত্রী চলাচলের জন্য যে ট্রলার বা নৌকাগুলো চলে, সবগুলো অবৈধ। কারণ সেসব নৌকাতে পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করা হয়। অথচ নৌকাতে বৈধ হলো মটর লঞ্চ। যারা এইগুলো দেখভাল করবেন, তারাও এই অবৈধ পাওয়ার পাম্প যুক্ত নৌকা বা ট্রলার চালান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, নৌ চলাচলে সরকারি কোনো নিয়ম নীতি নেই। সুনামগঞ্জে নৌকা ডুবে প্রাণহানীর ঘটনা নতুন নয়। তবে যারা এরকম মৃত্যুবরণ করেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয় তাদের।