মুজিব বর্ষের অন্যতম শ্লোগান হলোÑ পরিচ্ছন্ন গ্রাম পরিচ্ছন্ন শহর। অর্থাৎ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে মুজিববর্সে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই প্রত্যেকটি সরকারি দপ্তর জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর এই বিশেষ বছরটিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে সুস্থ থাকার সম্পর্কটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বর্তমান পৃথিবীর বহুল আলোচিত সমস্যার নাম পরিবেশ দূষণ, এও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে সম্পর্কিত। শিল্প-বর্জ্য মানবসভ্যতার জন্য এখন এতটাই হুমকি হয়ে উঠেছে যে, এই সমস্যার সমাধানে সারা পৃথিবী রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। গঠন করা হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু তহবিল। নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার। ঠিক এরকম প্রেক্ষাপটে একটি জেলা শহরের শরীরজুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন নৌকা ও ফেরিঘাটের যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেছে সেটি মুজিববর্ষের অঙ্গীকারের সাথে সম্পূর্ণ বেমানান। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পৌরশহরের বিভিন্ন নৌকা ও ফেরিঘাটগুলোর নোংরা পরিবেশ ও বেহাল অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘাটের পাশে নোংরা-আবর্জনার বিশাল বিশাল স্তূপ জমে রয়েছে। মানুষ বাসাবাড়ির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা এখানে স্তূপ করে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে এসব আবর্জনা জমতে জমতে এখন পাহাড়াকৃতি ধারণ করেছে। এই ময়লার স্তূপ পেরিয়েই মানুষ নৌকায় উঠেন। নদী পারাপার করেন। এই ময়লা প্রতিনিয়ত জীবাণু ছড়িয়ে মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে। নৌকাঘাটগুলোর অন্যান্য সমস্যাািদও প্রতিবেদনে সবিস্তৃত উঠে এসেছে। কিন্তু এই স্তম্ভে আমরা শুধু ময়লা আবর্জনা নিয়ে আলোকপাত করারই চেষ্টা করছি।
এসব নৌকা ও ফেরিঘাটের নিয়ন্ত্রক সুনামগঞ্জ পৌরসভা। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও পৌরসভার উপরই ন্যস্ত। সুতরাং নৌকাঘাটগুলোতে যে আবর্জনাময় পরিবেশ বিদ্যমান তার দায় এড়াতে পারে না পৌরসভা। এখানে নাগরিক সংস্কৃতি বা অভ্যাসের বিষয়টি সামনে চলে আসে। প্রতিবেদনে জনৈক পৌর কাউন্সিলর নাগরিক অভ্যাসের এই নেতিবাচক দিক সম্পর্কে মন্তব্যও করেছেন। নাগরিক সমাজ যেমন রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা করেন তেমনি রাষ্ট্রও নাগরিক সমাজের নিকট থেকে কিছু প্রত্যাশা করে। উভয় প্রত্যাশার জায়গায় বিদ্যমান ঘাটতিগুলোই সমস্যার জঞ্জাল তৈরি করে। একথা ঠিক নাগরিকদের দায়িত্ব যথাস্থানে ময়লা ফেলা, পৌরকর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে এই ময়লা অপসারণ করবেন। কেউই সঠিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করেন না। নাগরিক সমাজের অভ্যাস তৈরিতেও পৌরসভার দায়িত্ব রয়েছে। ব্যক্তিবিশেষ যখন প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না মেনে অন্যের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেন তখন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো- নিয়ম লংঘনকারী নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তেমনি প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিত অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে তাহলে নাগরিক সমাজের ভিতর থেকেই প্রশ্ন উঠে আসা উচিত। কিন্তু এই সময়ে এর কোনটিই হচ্ছে না। ফলে নানা জায়গায় অরাজকতা তৈরি হয়। নৌকাঘাটগুলোতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা আবর্জনার পিছনেও এই ঔদাসীন্য দায়ী নিঃসন্দেহে।
শুরুতেই মুজিববর্ষের অঙ্গীকারের উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বছরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কিছু ভাল কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। আমরা চাই এই অভিপ্রায় কাগজ আর ফাইলে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও দৃশ্যমান হোক। পৌরকর্তৃপক্ষ যদি এই বছরে একটি পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেয়ার লক্ষে কাজ শুরু করেন তাহলে ঘাটগুলোও পরিষ্কার হবে। এজন্য বেশি কষ্ট করতে হবে না। দরকার শুধু একটু সদিচ্ছা ও ব্যবস্থাপনার। বিদ্যমান সুযোগ সুবিধাদি ব্যবহার করেই এই কাজ করা সম্ভব। মুজিববর্ষে সুনামগঞ্জ পৌরসভার এমন একটি জনহিতকর ও কল্যাণমুখী কর্মকা- শহরবাসী দেখতে চায়।