সু.খবর রিপোর্ট
তৃতীয় ধাপের সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই তালিকা চূড়ান্ত হয়। পরে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা পাঠিয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়। দুই ইউনিয়নে ১০ জন নতুন ও ৭ জন পুরাতন প্রার্থী নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ, সুরমা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুস ছাত্তার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মোকছুদ আলী, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে মো. মনির উদ্দিন, কাঠইর ইউনিয়নে মো. বুরহান উদ্দিন, মোহনপুর ইউনিয়নে সীতেশ রঞ্জন দাস তালুকদার, গৌরারং ইউনিয়নে ছালমা আক্তার চৌধুরী, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে মো. মিজানুর রহমান, কুরবাননগর ইউনিয়নে মো. শামস উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৫টিতেই গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। ৩টিতে নতুন তিন ব্যক্তিকে নৌকার মাঝি করা হয়েছে। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে জগলুল হায়দার, জয়কলসের মো. মাসুদ মিয়া, দরগাপাশায় মনির উদ্দিন, পূর্ব বীরগাঁওয়ে রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল, পশ্চিম বীরগাঁওয়ে দেবাংশু শেখর দাশ, পূর্ব পাগলায় মো. রাসিকুল ইসলাম, পাথারিয়ায় শামসুল ইসলাম রাজা ও শিমুলবাঁকে মিজানুর রহমান জিতুকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে গত নির্বাচনে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া, শিমুলবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু, দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন নৌকা প্রতীকে জয় লাভ করলেও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের জগলুল হায়দার ও পূর্ব বীরগাঁওয়ের রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল পরাজয়বরণ করেছিলেন। এছাড়াও পাথারিয়া, পশ্চিম বীরগাঁও ও পূর্ব পাগলায় যারা নৌকা প্রতীকে পরাজয় বরণ করেছিলেন তাদেরকে এ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।
জয়কলস পরিষদের চেয়ারম্যান (নৌকা) মো. মাসুদ মিয়া ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জগলুল হায়দার নৌকা প্রতীক পেয়ে বলেন, প্রথম ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তারপর ধন্যবাদ জানাই মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দল আমাদের সঠিক মূল্যায়ন করেছেন। এখন আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করবো নৌকা প্রতীকের বিজয় অর্জন করতে। জণগণের প্রতি, নেতা কর্মীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে- তারা যেনো আমাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা করেন।
পূর্ব বীরগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (নৌকা) রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল ও শিমুলবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান (নৌকা) মিজানুর রহমান জিতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, নির্বাচক কমিটির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধুর নৌকা আশা করি আমাদের ইউনিয়নবাসী ফিরিয়ে দেবেন না। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা, দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার সুনামগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য ৪০ প্রার্থীর নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। জেলা কমিটি ছাড়াও কেউ কেউ সরাসরি নাম কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এই দুই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। ২ নভেম্বর এসব ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র দাখিল হবে। বাছাইয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সময় থাকবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।
গত সোমবার বৈঠকে মনোনয়ন বোর্ড সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, রশিদুল আলম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ। ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দশম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের এক হাজার সাতটি ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫ হাজার ৪৮৬ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে থেকে নৌকার প্রার্থী বাছাই শুরু করে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রার্থী বাছাই করা হয়। পরদিন শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের সভায় চূড়ান্ত করা হয় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থী। শনিবার তৃতীয় দিনের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থী তালিকা।