ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুকসদ তালুকদার আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী মিছিলে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যনগর ইউনিয়নের গলইখালি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মধ্যনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নওয়াব আলীর ছেলে রাসেল গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু মুকসেদ তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সেচ পাম্প বসানো নিয়ে নওয়াব আলীর ছেলের সাথে তার (মুকসেদ) লোকজনের মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন।
নওয়াব আলী জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধ্যনগর ইউনিয়নের খালিসাকান্দা গ্রাম থেকে নদী পথে কয়েকটি ট্রলারে করে নৌকার মিছিল নিয়ে মধ্যনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গলইখালি গ্রামের বিপরীত দিকে কিছু লোক নৌকার মিছিলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। তাদের তোলার জন্য ট্রলার পাড়ে ভিড়ালে মুকসেদ তালুকদার তার লোকজন নিয়ে নওয়াব আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং অপেক্ষমাণ লোকদের নৌকার মিছিলে যেতে বাধা দেন। এতে নওয়াব আলীর ছেলে রাসেল মিয়া প্রতিবাদ করলে মুকসেদ তালুকদার ও তার লোকজন রালেসলকে বেধড়ক মারধর করে। এতে রাসেল গুরুতর আহত হয়।
কিন্তু মুকসেদ তালুকার জানিয়েছেন, দুই মাস আগে তার (মুকসেদ) লোকজন গলইখালি এলাকায় একটি সেচ পাম্প বসিয়েছে। এই এলাকায় নওয়াব আলী ও তার ছেলে আরও একটি সেচ পাম্প বসানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি (মুকসেদ) মধ্যনগর বাজারে অবস্থান করছিলেন। মারামারির খবর শুনে তিনি সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। এ ঘটনার জেরে নওয়াব আলীর লোকজন মুকসেদের এক ভাগ্নের দোকান ঘর ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, ‘মুকসেদ কর্তৃক নৌকার মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। মুকসেদ নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘মুকসেদ তালুকদারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে।’
মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেব বলেন, ‘মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে কি নিয়ে কে বা কারা এমনটি করেছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’