বিশেষ প্রতিনিধি
‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পার হয়েছে। এখনো এই ফাইল নড়ে নি। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের আর কোন অগ্রগতি নেই। অথচ এই বিল পাস হবার আগে দ্রুত অন্যান্য কাজ এগিয়েছিল।
গত বছরের ২রা মার্চ সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই বিশ^বিদ্যালয়ের খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর ইনিশিয়েটিভ। এই কনসেপ্টটা ওনার মাথা থেকে এসেছে যে- রিমোট এলাকাতেও বিশ্ববিদ্যালয় থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রত্যন্ত এলাকায় পাবলিক বিশ্ববদ্যালয় স্থাপনের জন্য সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রসঙ্গত. পরিকল্পনা মন্ত্রী সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এম মান্নানের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হবে। ইতিমধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ’এর একাডেমিক ভবনের কাজ শেষের পথে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ইতিমধ্যে ৪৮ জন ছাত্রের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রস্তুত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মৌলি আজাদের নেতৃত্বে কমিটি করে দিয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সৈয়দ আলী রেজা এই খসড়া আইনটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। যেহেতু এটি একটি স্বতন্ত্র আইন। অন্য কোন মন্ত্রণালয়ের বা অন্য কোন আইনের ধারা উপধারা অনুচ্ছেদ বা উপ-অনুচ্ছেদের বক্তব্য বা মতামতের সাংঘর্ষিকতা আছে কী-না, যাচাই-বাছাই করার জন্যই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এই খসড়া আইন পাঠিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল।
এরপর ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে খসড়া আইনটি নীতিগতভাবে অনুমোদন শেষে আইন মন্ত্রণালয় হতে ভেটিং গ্রহণ কাজ শেষ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ গত বছরের ১৮ নভেম্বর জতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ হয়।
এরপর আর কোন অগ্রগতি হয় নি। জাতীয় সংসদে এই বিশ^বিদ্যালয়ের আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থানের দ্বিমত পোষণ করেন সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্যগণ। পরে বিশ^বিদ্যালয়টি দেখার হাওরপাড়ে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। গেল ৬ মাসে এই বিষয়ে আর কোন অগ্রগতি নেই। হাওরবাসীর স্বপ্নের এই উচ্চ শিক্ষা বিদ্যাপীঠের অগ্রগতির সংবাদে এখন ধীরগতি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন শনিবার জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^ বিদ্যালয়ে কোন আপডেট তাঁর জানা নেই। তিনি এই বিষয়ে কোন পত্র পান নি। জমি অধিগ্রহণ বিষয়েও তাঁর কিছুই জানা নেই।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি এই বিষয়ে জানালেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় অবশ্যই হবে। এটি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এঁর দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী যা যা করতে হয় সব কিছুই তিনি করবেন জানিয়ে বলেন, অবশ্যই হাওরবাসীর স্বপ্নের এই বিশ^বিদ্যালয় হবে।