- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ:) এর ওরস পুন্যার্থীদের শুভেচ্ছা

পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ:) এর ওরস উপলক্ষে আজ জাদুকাটা নদী তীর এবং সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড়ে বহু পুন্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। মূলত গতকাল থেকেই দুই ধর্মের অন্যতম দুই উৎসব উপলক্ষে এই জায়গাগুলোতে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। দেশ—বিদেশ থেকে পুন্যস্নান ও ওরসে আসা সকল পুন্যার্থীদের আমাদের শুভেচ্ছা।
সুদূর অতীত থেকে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় পাশাপাশি দুই ধর্মের দুইটি উৎসব এক দিনের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। একসাথে উভয় ধর্মের লোকজন একই সড়ক ব্যবহার করে পাশাপাশি যার যার গন্তব্যে ছুটছেন। একজন আরেকজনকে সহায়তা করছেন। পথের ধারে থাকা প্রতিটি গ্রামের লোকজন আন্তরিকভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনকে নানাভাবে সহায়তা করছেন। কেউ জল দিয়ে, কেউ বিশ্রামের আশ্রয় দিয়ে, কেউ পথ দেখিয়ে সহাস্যে কোন বিরক্তি ছাড়া এই মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন বহু বছর ধরে। এই সহনশীলতা, সামাজিকতা ও আন্তরিকতাই আমাদের মূল পরিচয়। এই পরিচয়—বৈশিষ্ট্যই ধর্মীয় পরিচয়ের উর্দ্ধে উঠে ভাষাভিত্তিক একটি জাতি—রাষ্ট্র গঠনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বাঙালি বা বাংলাদেশি, নিজ নিজ ধর্ম পালনে যেমন নিবেদিত তেমনি অন্য ধর্মের মর্যাদা রক্ষায়ও সমান সক্রিয়। এই উদারতার অনন্য এক উদাহরণ হলÑ পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ;) এর ওরস উৎসব।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখন বহু দূর দূরান্ত থেকে এমনকি দেশের বাইরে থেকেও পুন্যার্থীরা এই পবিত্র তীর্থস্থানগুলোতে আসছেন। লোকসমাগম বেশি হওয়ার কারণে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার তাগিদও এখন আগের চাইতে অনেক বেশি। জেলা প্রশাসন এবং তাহিরপুর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসন বেশ আগে থেকেই দুই ধর্মীয় উৎসবে আগত লোকজনের স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত ও নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর রয়েছেন। আমরা আশা করি কোন দুর্ভোগ যন্ত্রণা ছাড়াই তীর্থভ্রমণের কাজটি সম্পন্ন করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন তাঁরা। মহামারী করোনার কারণে গত দুই বছর মূলত কোন উৎসব হয়নি। লোকজনও তেমন আসেননি। এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাই তীর্থমুখী যাত্রীদের সারিও বেশ দীর্ঘই দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ এই তীর্থযাত্রীদের সব ধরনের সুবিধা—অসুবিধার প্রতি আপনারা সার্বক্ষণিক নজর রাখুন।
সুনামগঞ্জ—বিশ^ম্ভরপুর—তাহিরপুর সড়কের যেসব স্থান দিয়ে তীর্থমুখী পৃথক সড়ক ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেসব সড়কের অবস্থা মানসম্পন্ন নয়। এইসব সড়ক যেমন সুনির্মিত নয় তেমনি এগুলোর প্রশস্ততাও অনেক কম। ফলে এসব রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। এসব জট পেরিয়ে আসা—যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চাইতে পাঁচ/সাত গুণ বেশি সময় লাগে। এই সময়ক্ষেপণের কারণে পুন্যার্থীরা খুব বিরক্ত হন। আমরা প্রতি বছরই এসব সড়ককে উপযুক্ত মানে তৈরি করার আহ্বান জানাই। এবারও একই অনুরোধ রাখলাম। দুইটি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানের বাইরেও এই সীমান্তবর্তী সড়কটি পর্যটন ও ভারতের সাথে আন্তদেশীয় বাণিজ্যের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সড়কগুলো সঠিকভাবে তৈরি করা খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা আশা করব সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। এছাড়া উৎসবস্থলগুলোতে আরও অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, প্রাকৃতিক কার্যাদির উপযুক্ত ব্যবস্থা, কাপড় পরিবর্তনের সুবন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা, ঝড়—বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়; ইত্যাদি অপরিহার্য চাহিদাগুলোর দিকে উৎসব কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে পুন্যস্থান দুইটিতে ভবিষ্যতে লোকসমাগম বাড়তেই থাকবে। উপযুক্ত সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা গেলে পুন্যার্থীরা যেমন আনন্দিত হবেন তেমনি এইসব দ্রষ্টব্য জায়গার প্রচার—প্রসারও আরও অনেক বর্ধিত হবে।
দুই ধর্মের পুন্যার্থীদের এই যুগল যাতায়াতের সময়টি সকলের আনন্দ ও স্বস্তিকে কাটুক। যার যার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক এই আমাদের কামনা।

  • [১]